কক্সবাজারের মহেশখালী ও সদর মডেল থানায় দায়ের করা দুটি ফৌজদারি মামলায় অব্যাহতি চেয়ে করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. আকরাম হোসাইন চৌধুরী ও বিচারপতি এ. এম. শফিউল করিম-এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ এ আদেশ দেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, রিট আবেদনটি করেন অ্যাডভোকেট আবদুল খালেক চৌধুরী ওরফে আবদুল খালেক চেয়ারম্যান। তিনি মহেশখালী থানার মামলা এবং কক্সবাজার সদর মডেল থানার মামলাসহ দুটি মামলায় তাকে অব্যহতি প্রদান না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম নিষ্ক্রিয়তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
রিটে উল্লেখ করা দুটি মামলার মধ্যে একটি হলো মহেশখালী থানার মামলা নং-০৪, তারিখ ৩ মার্চ ২০২৫, যা জিআর মামলা নং-৫৯/২০২৫ হিসেবে নথিভুক্ত। মামলাটি দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় করা হয়েছে এবং কক্সবাজারের বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যটি হলো কক্সবাজার সদর মডেল থানার মামলা নং-৪৯, তারিখ ২১ মার্চ ২০২৫, যা জিআর মামলা নং-১৫৪/২০২৫ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারার পাশাপাশি Explosive Substances Act, 1908-এর ৩/৪ ধারাও উল্লেখ রয়েছে।
রিট আবেদনে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩এ ধারা এবং সংবিধানের ২৭, ২৯, ৩১ ও ৪০ অনুচ্ছেদের বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ :
শুনানি শেষে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট প্রতিপক্ষদের প্রতি Rule Nisi জারি করে জানতে চেয়েছেন আবেদনকারীকে উল্লিখিত মামলাগুলো থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম বা নিষ্ক্রিয়তাকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগত ফলবিহীন ঘোষণা করা হবে না।
আদেশে সংশ্লিষ্ট প্রতিপক্ষদের ১৩ মে ২০২৬-এর মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আবেদনকারীকে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিপক্ষদের ওপর নোটিশ জারির ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
তবে আদালতের এই আদেশের অর্থ আবেদনকারী ইতোমধ্যে মামলা থেকে খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন এমন নয়। হাইকোর্টের জারি করা রুলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও আইনগত বিষয় পর্যালোচনা করে আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।


Leave a Reply