হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় আর কিছু দিন পর শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সব চেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। তাই ঘরে ঘরে দেবী দুর্গার আগমনীর বার্তা। এবার লাখাই উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে ৬৭ টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য মূর্তি তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন লাখাই এর মুৎশিল্পীরা। আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে শুরু হবে এ পূজা এবং ২১ অক্টোবর দশমী তিথিত প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ অনুষ্ঠান। প্রতি বছরের মতো এবার সনাতনী পঞ্জিকা অনুযায়ী মহালয়া হবে ১০ অক্টোবর। তাই ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী তিথিতে হবে বোধন ও ষষ্ঠী বিহিত পূজা। পর দিন১৭ও ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল অনুষ্ঠান। ১৯ অক্টোবর মহাঅষ্টমী এবং ২০ অক্টোবর মহানবমী পূজা।
২১ অক্টোবর মহাদশমী বা বিজয়া দশমী হবে। এ দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। উপজেলার বিভিন্ন পূজামন্ডপে ঘুরে দেখা যায়- কাদা-মাটি, বাঁশ, খড় দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় গড়ে তোলা দেবীদুর্গার প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্থ সময় পার করছেন প্রতিমা কারিগররা। প্রতিমা তৈরির কারিগর রুবেল পাল বলেন- প্রতি বছর এ সময় ১০/১৫ টি পূজা মন্ডপের কাজ করে থাকি, এ বছর মাত্র ১০টি পূজা মন্ডপের মূর্তির কাজ করছি। এ বছর প্রতিটি প্রতিমার দাম প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা চাওয়া হচ্ছে,
সজল পাল বলেন আমার বাড়িতে দুই সেট পূর্তি আছে, তিনি আরো বলেন বিভিন্ন পূজা মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ করি,
বিভিন্ন উপজেলা থেকে কাজ করতে আসে অনেক শিল্পীরা। লাখাই উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যান ফ্রন্টের আহবায়ক
সাংবাদিক আশীষ দাশ গুপ্ত বলেন-এ বছর উপজেলায় ৬৭ টি পূজা মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। যে সব পুজা মন্ডপে মূর্তি তৈরি হচ্ছে সে সব মন্ডপে সিসি ক্যামেরা ও ৫ জন করে সেচ্ছাসেবক পালা ক্রমে রাখতে হবে।
যারা প্রতিমা তৈরি করছে তাদের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে মার মূর্তি যেন সাত্ত্বিক ভাবে তৈরি করা হয়।
লাখাই থানার ওসি শরীফ আহমেদ জানান সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা পালন করতে প্রশাসন নিরাপত্তা থেকে শুরু করে সর্বপ্রকার সহযোগিতা করবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান-আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে পালন করার লক্ষ্যে কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশনা আসবে সবাইকে নিয়ে মিটিং করে সেই মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


Leave a Reply