নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা ভুয়া খাজনার দাখিলা ব্যবহার করে দলিল রেজিস্ট্রি করার সময় রিফাত মোল্লা (২৪) নামের এক কথিত সিভিল কোর্ট কমিশনারকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) পলাশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস চত্বরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
গ্রেফতারকৃত রিফাত মোল্লা শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের দক্ষিণ সাধারচর গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেকে নিবন্ধিত একজন সিভিল কোর্ট কমিশনার হিসেবে এলাকা
পরিচয় দিয়ে দলিল লেখা, জমির- মাপযোপ পরিমাপসহ ভূমি সংক্রান্ত নানা কাজ করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় , বুধবার পলাশ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের একটি জমির দলিল রেজিস্ট্রি করার জন্য আসেন রিফাত মোল্লা। এ সময় দাখিলকৃত খাজনার দাখিলা রশিদ নিয়ে সাব-রেজিস্টার মো. মিজানুর রহমানের মনে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পলাশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাকীন মাশরুর খানকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্রুত সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হন এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেন। যাচাইয়ে খাজনার দাখিলাটি সম্পূর্ণ জাল ও জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি বলে প্রমাণিত হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে রিফাত মোল্লাকে আটক করে পলাশ থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে পলাশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাকীন মাশরুর খান জানান, “দলিল করার সময় সাব-রেজিস্টারের সন্দেহ হলে আমাকে অবগত করলে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে জালিয়াতির সত্যতা পাই। পরে আমার অফিসের সংশ্লিষ্ট স্টাফ বাদী হয়ে পলাশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, “সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাঠিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অপরাধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
প্রশাসনের এমন সময়োপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। ভূমি সংক্রান্ত প্রতারণা রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।


Leave a Reply