সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
জুলাই গণহত্যা: ফেরদৌস-রিয়াজ-মাহি-শাওনসহ ২৮ তারকার নামে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ কুমিল্লায় ১০-বিজিবির অভিযানে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি ও মোবাইল ডিসপ্লে জব্দ এমপি ওয়াদুদ ভুঁইয়ার উদ্যোগে রামগড়ে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ জনদুর্ভোগ কমাতে নিজস্ব অর্থায়নে কুলবাড়িয়া-মাগুরখালী সড়ক সংস্কার করলেন চেয়ারম্যান হেলাল টুঙ্গিপাড়ায় পৌর পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মাঝে ইউনিফর্ম বিতরণ টুঙ্গিপাড়ায় ‘৩৬ জুলাই’ স্মারক তোরণে আগুন,এলাকায় চাঞ্চল্য ইসলামপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গন: চোখের সামনেই ভিটেমাটি হারিয়ে দিশেহারা মানুষ রামগড়ে দুই বছর ধরে কর্মকর্তা ছাড়াই চলছে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস কুমিল্লা দাউদকান্দিতে এক রাতের অভিযানে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার,গ্রেপ্তার-৮ রংপুরে শেষ সিনেমা হলটিও বন্ধ হলো

ইসলামপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গন: চোখের সামনেই ভিটেমাটি হারিয়ে দিশেহারা মানুষ

আলমাস হোসেন আওয়াল, ইসলামপুর জামালপুর প্রতিনিধি
  • Update Time : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০ সময় দেখুন
১৩

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদ, যমুনা ও দশানি নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, আবাদি জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা। ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে জনপদের মানচিত্র, আর চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ।

শনিবার সরেজমিনে উপজেলার চর গোয়ালিনী ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়,নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিবছরই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভয়াবহ নদীভাঙনের শিকার হন। চলতি বছরও নদীভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় তাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
শুধু লক্ষীপুর গ্রামই নয়,উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে কুলকান্দি,বেলগাছা,চিনাডুলি,সাপধরি,নোয়ারপাড়া,সদর, গোয়ালেরচর,গাইবান্ধা,চরপুটিমারী ও পলবান্ধা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনের তীব্রতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এসব এলাকার অসংখ্য পরিবার বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হারানোর আশঙ্কায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ,নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে বসতবাড়ি, ভিটেমাটি ও ফসলি জমি। অনেক কৃষক তাদের একমাত্র আয়ের উৎস আবাদি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। আবার অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বহু বছরের সঞ্চয়ে গড়ে তোলা স্বপ্নের বাড়িঘর মুহূর্তেই নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়ছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়রা জানান,নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে তারা একাধিকবার মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। কিন্তু এখনো স্থায়ী কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন না হওয়ায় ভাঙনের ঝুঁকি আরও বেড়েই চলেছে।

জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এছাড়াও নদীভাঙনে বসতবাড়ি, ভিটেমাটি ও আবাদি জমি হারানো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ মোঃ জোবায়ের জানান, ইতিমধ্য আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিক বার অবহিত করেছি। এছাড়াও ভাঙ্গন কবলিত এলাকা খোঁজ খবর রাখছি। আশা রাখছি দ্রুত সময়ের মধ্যই ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভাঙনকবলিত মানুষের একটাই আকুতি প্রতিবছরের এই দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি এবং নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবুর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD