শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইসলামপুরে যুবদল নেতাকে ‘ফাঁসানোর’ প্রতিবাদে চরপুটিমারী: মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) কর্তৃক মালিকবিহীন ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং বাংলাদেশী যৌন উত্তেজক সিরাপ আটক সম্প্রীতির বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ কৃষকদের সমস্যা সমাধানে পবিপ্রবিতে “ওয়ানস্টপ সার্ভিস” চালু করা হবে–পবিপ্রবি ভিসি প্রফেসর হেমায়েত জাহান রাজাপুরে নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে ব্র্যাকের পেশাদার ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ শুরু বায়না ও টাকা নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি না করে পালানোর অভিযোগ বাগেরহাট কারাগারে খাবার গলায় আটকে হাজতির মৃত্যু আমার নির্বাচনী এলাকায় কোনো উন্নয়ন কাজ অবশিষ্ট থাকবে না: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, এমপি পাহাড়ের শিক্ষায় ই-লার্নিং, আর কোনো বৈষম্য থাকবে না: প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার হেলাল কুড়িগ্রাম সদরে নিজ শোয়ার ঘরে কলেজ ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ইসলামপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গন: চোখের সামনেই ভিটেমাটি হারিয়ে দিশেহারা মানুষ

আলমাস হোসেন আওয়াল, ইসলামপুর জামালপুর প্রতিনিধি
  • Update Time : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৭ সময় দেখুন
৫১

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদ, যমুনা ও দশানি নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, আবাদি জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা। ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে জনপদের মানচিত্র, আর চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ।

শনিবার সরেজমিনে উপজেলার চর গোয়ালিনী ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়,নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিবছরই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভয়াবহ নদীভাঙনের শিকার হন। চলতি বছরও নদীভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় তাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
শুধু লক্ষীপুর গ্রামই নয়,উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে কুলকান্দি,বেলগাছা,চিনাডুলি,সাপধরি,নোয়ারপাড়া,সদর, গোয়ালেরচর,গাইবান্ধা,চরপুটিমারী ও পলবান্ধা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙনের তীব্রতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এসব এলাকার অসংখ্য পরিবার বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হারানোর আশঙ্কায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ,নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে বসতবাড়ি, ভিটেমাটি ও ফসলি জমি। অনেক কৃষক তাদের একমাত্র আয়ের উৎস আবাদি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। আবার অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বহু বছরের সঞ্চয়ে গড়ে তোলা স্বপ্নের বাড়িঘর মুহূর্তেই নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়ছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়রা জানান,নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে তারা একাধিকবার মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। কিন্তু এখনো স্থায়ী কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন না হওয়ায় ভাঙনের ঝুঁকি আরও বেড়েই চলেছে।

জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এছাড়াও নদীভাঙনে বসতবাড়ি, ভিটেমাটি ও আবাদি জমি হারানো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ মোঃ জোবায়ের জানান, ইতিমধ্য আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিক বার অবহিত করেছি। এছাড়াও ভাঙ্গন কবলিত এলাকা খোঁজ খবর রাখছি। আশা রাখছি দ্রুত সময়ের মধ্যই ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভাঙনকবলিত মানুষের একটাই আকুতি প্রতিবছরের এই দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি এবং নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবুর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD