চাঁদা দাবির অভিযোগে পিরোজপুরে বিএনপির তিন নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নির্মাণাধীন একটি বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের বালু ভরাটের কাজকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি এবং পাইপ ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম শেখ, ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজু শেখ, শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি আশরাফুল এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হাসিব শেখ।
পুলিশ জানায়, আব্দুস সালাম শেখকে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। এ অভিযানে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১০ সহযোগিতা করে। পরে তাকে পিরোজপুর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অন্য তিনজনকে পিরোজপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চাঁদাবাজির মামলায় সালাম শেখকে ঢাকা থেকে এবং অপর তিনজনকে পিরোজপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার পিরোজপুর শহরের কুমারখালী এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলাটি করেন। মামলায় গ্রেপ্তার চারজন ছাড়াও আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা গ্রামে একটি বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। ওই প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বালু ভরাটের কাজের চুক্তি করেন জাকির হোসেন। গত ১৩ আগস্ট থেকে তিনি প্রকল্প এলাকায় বালু ফেলার কাজ শুরু করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, কাজ শুরুর পর আব্দুস সালাম শেখ তাকে ওই কাজে অংশীদার করার জন্য চাপ দেন। জাকির হোসেন এতে সম্মতি না দেওয়ায় প্রতি সিএফটি বালু ফেলার বিপরীতে এক টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়।
চাঁদার দাবিতে রাজি না হওয়ায় সালাম শেখ ও তার সহযোগীরা বালু ভরাটের কাজে ব্যবহৃত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপ ভেঙে দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এতে জাকির হোসেনের প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় সালাম শেখসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে পিরোজপুর সদর থানায় মামলা করেন জাকির হোসেন। মামলার পর তদন্তে নেমে পুলিশ ঢাকা থেকে সালাম শেখকে এবং পিরোজপুরের কদমতলা এলাকা থেকে আরও তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


Leave a Reply