আজ (২০ আগস্ট) বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় থেকে শাপলা চত্বর পর্যন্ত জনস্বার্থবিরোধী ও জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তুলে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার বাতিলের দাবিতে রংপুরে ‘স্তব্ধ রংপুর’ কর্মসূচি পালন করেছে বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরাম।
কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এসময় বক্তারা প্রিপেইড মিটারকে ‘ডিজিটাল ডাকাত’ ও ‘জনগণের পকেট কাটার যন্ত্র’ আখ্যায়িত করে অবিলম্বে এ প্রকল্প বাতিলের দাবি জানান।
সমাবেশে বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, “প্রিপেইড মিটার চালুর পর সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। আগে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে মানুষ স্বাভাবিক বিল দিত, এখন একই ব্যবহারে বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। সরকার জনগণের সুবিধার কথা বললেও বাস্তবে এটি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
সংগঠনের সদস্য সচিব আহসানুল আরেফিন তিতু বলেন, “প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে নানা খাতে অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে। রিচার্জ করার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন চার্জ ও ভ্যাটের নামে টাকা কর্তন করা হয়। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিদ্যুৎ একটি মৌলিক সেবা। এই সেবাকে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করা যাবে না। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে দ্রুত প্রিপেইড মিটার প্রকল্প বাতিল করতে হবে।”
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নগরীর মুন্সিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “আগে মাস শেষে বিল দিতাম। এখন আগে টাকা ভরতে হয়। টাকা শেষ হলেই বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যায়। এতে অনেক সময় রাতের বেলাতেও সমস্যায় পড়তে হয়।”
গৃহিণী শাহিদা বেগম বলেন, “রিচার্জ করার পর পুরো টাকাটা ব্যবহার করা যায় না। বিভিন্ন চার্জ কেটে নেওয়া হয়। আমরা বুঝতেই পারি না কী কারণে টাকা কাটা হচ্ছে।”
রিকশাচালক আব্দুর রহিম বলেন, “কষ্ট করে আয় করা টাকা বিদ্যুতের পেছনে বেশি খরচ হচ্ছে। প্রিপেইড মিটার আমাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।”
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রিপেইড মিটার চালুর আগে গ্রাহকদের মতামত নেওয়া হয়নি। তারা বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নের নামে এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত নয়, যা জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা সৃষ্টি করে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার প্রকল্প বাতিলের ঘোষণা না এলে রংপুরসহ সারা দেশে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে তারা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জনগণের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।


Leave a Reply