দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জজ মিয়াকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. শরীফুল আলম এমপি ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম এমপি এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
গত ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম এমপি’র স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়।
মো. মাজহারুল ইসলাম এমপি’র স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সুপারিশ ও দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক মো. জজ মিয়া-কে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সাথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাঁর সঙ্গে কোনো প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই গ্রামের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জজ মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের আলীনগর পূর্ব পাড়া গ্রামে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী (১১) ধর্ষণের শিকার হয়। অভিযোগ উঠে একই গ্রামের মৃত আ. গফুরের ছেলে স্থানীয় ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জজ মিয়া (৫৫) ওই শিশুটিকে তাঁর নিজ বাড়ির পশ্চিমে নদীর পাড় ফারুক মিয়ার জমি থেকে মুখে গামছা পেঁচিয়ে তুলে নিয়ে পাশের নদীর পাড় সংলগ্ন একটি জঙ্গলে শিশুটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত মো. জজ মিয়ার বিরুদ্ধে গত ১৫ আগস্ট কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১০।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার দিনই এলাকাবাসী অভিযুক্ত মো. জজ মিয়াকে হাতেনাতে আটক করে ভুক্তভোগীর বাড়িতে নিয়ে যান। তবে স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর বিষয়টি শালিস-বৈঠকের মাধ্যমে আপোসের চেষ্টা করেন। গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে সালিশ ডেকে শিশুটির পরিবারের হাতে ৫০ হাজার টাকা তুলে দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ভুক্তভোগীর পরিবার এই অন্যায় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পরের দিন ১৪ আগস্ট শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ধর্ষিতা শিশুটিকে সাথে নিয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়ের পরদিন ১৫ আগস্ট থানায় মামলাটি রুজু করে ঘটনার দুই দিন পর শিশুটিকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য কিশোরগঞ্জ জেলা হাসপাতালে প্রেরন করেন পুলিশ।
ভুক্তভোগীর বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্বেও এলাকায় এই ধরণের অপরাধ করেছে। তবে উপযুক্ত বিচার না পাওয়ায় সে বারবার একই ধরনের অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে। বর্তমানে মামলা দায়েরের পর থেকে একটি মহল ঘটনাটি ভিন্নখাতে মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তিনি এ ঘটনায় ন্যায়বিচারের আশায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শিশুটির চাচা মো. নজরুল ইসলাম জানান, থানায় অভিযোগ দায়ের পর থেকে আসামি পক্ষের লোকজনের হুমকি-ধামকিতে পুরো পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মোবারক হোসেন জানান, তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে দেখা করেছেন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মো. জজ মিয়া পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শেষে থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে । আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


Leave a Reply