ঝালকাঠির রাজাপুরের মঠবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ সাউথপুর গ্রামের বেপারীবাড়ি এলাকায় বদনিকাঠি খালের ওপর নির্মিত আয়রন ব্রিজটি ভেঙে পড়ে রয়েছে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে। জরাজীর্ণ ও বিপজ্জনক এই অবস্থায় প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন বদনিকাঠি ও সাউথপুর— এই দুই গ্রামের সহস্রাধিক বাসিন্দা।
বছরের পর বছর ভোট আসে, নির্বাচন ঘিরে প্রতিশ্রুতির জোয়ার ভাসে, কিন্তু অবহেলিত এই দুই গ্রামবাসীর ভাগ্যে জোটে না একটি টেকসই স্থায়ী ব্রিজ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর আগে বদনিকাঠি খালের ওপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আয়রন ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে নির্মাণের মাত্র ৮ থেকে ৯ বছরের মাথায় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্রিজটির ওপরের সিমেন্টের স্ল্যাব ভেঙে নিচে পড়ে যায়। এরপর থেকে দীর্ঘ তিন দশক ধরে ব্রিজটি সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদ সদস্যদের কাছে অগনতি বার মৌখিক আবেদন জানালেও আজ পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি বা কর্তৃপক্ষ ব্রিজটি পুননির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা সাহাদাত ব্যাপারি, ইয়াছিন সিকদার ও জাহাঙ্গীর ব্যাপারি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিদিন দুই গ্রামের সহস্রাধিক লোক বাধ্য হয়ে এই ভাঙা ব্রিজের ওপর দিয়ে পারাপার হচ্ছেন”। প্রতি বছর আমরা এলাকাবাসী মিলে চাঁদা তুলে বাঁশ ও সুপারি গাছ দিয়ে চলাচলের জন্য একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা করি। তবে বয়স্ক, নারী ও ছোট শিশুদের জন্য এই নড়বড়ে সাঁকো পার হওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক।”
তারা আরও জানান, বিশেষ করে বর্ষার দিনে খালের দুই পাড়ের কাঁচা মাটির রাস্তা কাদা হয়ে পিচ্ছিল রূপ নেয়। এ সময় নড়বড়ে সাঁকোটি অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে পড়ে এবং পার হতে গিয়ে প্রায়ই মানুষ খালের মধ্যে পড়ে আহত হচ্ছেন। গত সপ্তাহেও বদনিকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিশু শিক্ষার্থী পা পিছলে নিচে পড়ে আহত হয় এবং তাদের বই-খাতা খালের পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। ব্রীজটি দিয়ে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি দাখিল মাদ্রাসা ও তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঝুকি নিয়ে প্রতিয়িত পারাপার হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবার ভোটের মৌসুম আসলেই প্রার্থীরা ভোট ভিক্ষা করতে এসে ব্রিজের এই ভঙ্গুর দসা দেখে স্থায়ী সমাধানের মিষ্টি আশ্বাস দিয়ে যান। কিন্তু ভোট শেষ হয়ে গেলে ওই এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা আর কারও মনে থাকে না।
সামনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবারেও প্রতিশ্রুতির কথা মিলছে। মহিলা মেম্বার পদপ্রার্থী স্থানীয় মাতোয়ারা বেগম নির্বাচিত হতে পারলে ওই স্থানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি সম্প্রতি তিনি নিজ অর্থায়নে বাঁশ ও সুপারি গাছ কিনে এনে পুরনো আয়রন ব্রিজের বিমের ওপর দিয়ে সাময়িকভাবে মানুষের পারাপারের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা অভিজিৎ মজুমদার বলেন, “উক্ত ব্রিজটির জরাজীর্ণ অবস্থা সম্পর্কে আমার আগে জানা ছিল না। আমি দ্রুত খোঁজ-খবর নিয়ে সেখানে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব পাঠাব।”


Leave a Reply