জীবনের শেষ ঠিকানা কবর। যেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত থাকেন প্রিয়জন, যেখানে মানুষ শেষবারের মতো ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা জানাতে আসে। সেই কবরস্থানই যদি দখলের অভিযোগে নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে, তবে তা শুধু একটি জমি বিরোধ নয়—এটি মানবিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সামাজিক বিবেককে নাড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা।
এমনই এক অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের ডিগ্রীরচর বেপারীপাড়া এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কবরস্থানের জন্য দান করা জমিসহ আশপাশের আরও জমি জোরপূর্বক দখল করেছেন মৃত অহেজ শেখের ছেলে মতলেব মিয়া এবং তার ছেলে শাহ আলী, সাইফুল ও শামীম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই চরগোবিন্দী মৌজার ৬৮৫ নম্বর খতিয়ানের জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। খলিল মিয়া ও তার ভাই আব্দুল জলিল ওয়ারিশ ও ক্রয়সূত্রে বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে প্রায় ৭৮ শতক জমির মালিক এবং ৩৫৮ নম্বর জমাখারিজের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন।
স্থানীয় ভূমিহীন মানুষের কথা বিবেচনা করে এবং নিজ বংশীয় লোকজনের দাফনের জন্য একটি স্থায়ী কবরস্থান গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে আব্দুল জলিল ধর্মীয় অনুপ্রেরণায় ওই মৌজার ৬৮৫ নম্বর খতিয়ানের ১৯১৯ নম্বর দাগ থেকে ৩১৯০ নম্বর দলিলমূলে ৩ শতক জমি কবরস্থানের জন্য দান করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই জমি দান করার পর থেকেই বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্তরা কবরস্থানের জন্য দান করা ৩ শতক জমিসহ একই দাগের আরও প্রায় ৭ শতক দখল করে মোট ১০ শতক জমি বেদখল করেছেন বলে দাবি করেন অভিযোগকারীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা লিটন, মানিকসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, “একটু চিন্তা করলেই বোঝা যায়, পৃথিবীতে মানুষের শেষ ঠিকানা কবর। অথচ সেই কবরের জমিও যদি দখলমুক্ত না থাকে, তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে? আমরা অন্তত কবরস্থানের জমিটুকু দখলমুক্ত দেখতে চাই। সেখানে আমাদের পূর্বপুরুষদের কবর রয়েছে। সেই স্মৃতিচিহ্ন ভেঙে আবাদি জমি বানানোর চেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
আব্দুল জলিল বলেন, “ধর্মীয় দায়িত্ববোধ থেকে আমি কবরস্থানের জন্য জমি দান করেছি, যাতে মানুষ মৃত্যুর পর সম্মানের সঙ্গে দাফন হতে পারে এবং তাদের স্মৃতি সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু সেই জমিই এখন দখল করা হয়েছে। শুধু কবরস্থানের ৩ শতক নয়, আমার আরও ৭ শতক দখলি জমিসহ মোট ১০ শতক জমি তারা বেদখল করেছে। প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়, এমনকি হত্যার ভয়ও দেখানো হয়েছে। আমি প্রশাসন ও আইনের আশ্রয় চাই।
কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সভাপতি মজিবর রহমান বলেন, আমরা তাদের প্রভাবের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছি। একজন মুসলমান হিসেবে কেউ কবরস্থানের জমি দখল করতে পারে না। কিন্তু লোভের কাছে যেন ধর্মও হার মানছে। কবরস্থানের জমি উদ্ধার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে পরিচালনা কমিটির সদস্য খলিলুর রহমানকে বাদী করে আদালতে মামলা করেছি। আমরা ন্যায়বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মতলেব মিয়া ও তার ছেলেদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সম্ভব হলে পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে কবরস্থানের জমি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।


Leave a Reply