ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের নিচে মাটি ফেলে শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র।
প্রথমে মাটি ভরাট করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল করা হচ্ছে, আর এরপরই সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে অবৈধ দোকানপাট। এ অবস্থায় মেদিনীমন্ডলবাসীর স্পষ্ট দাবি অবিলম্বে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে কালভার্টের মুখ পুনরায় খনন করতে হবে এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
থানা ও বিবিএ অফিসের নাকের ডগায় দখল উৎসব
লৌহজংয়ের মেদিনীমন্ডল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শিকদার বাড়ি এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ের কালভার্টটি দখল হয়ে যাচ্ছে প্রকাশ্যে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এক্সপ্রেসওয়ের এক পাশে পদ্মা সেতু উত্তর থানা এবং অন্য পাশেই বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) কার্যালয়। এই পুরো এলাকা ও কালভার্ট বিবিএ-এর আওতাধীন হলেও তাদের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে মারাত্মক প্রশ্ন। অফিসের এত কাছে এভাবে সরকারি সম্পদ দখল হয়ে গেলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যেন ‘চোখে কাঠের চশমা’ লেগে আছে। তাদের চোখের সামনেই মাটি ফেলে কালভার্ট ভরাট হয়ে গেলেও কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ ফুঁসে উঠছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিকদার বাড়ি সংলগ্ন কালভার্টটি এক্সপ্রেসওয়ের দুই পাশের বিস্তীর্ণ বিলের পানি চলাচলের প্রধান মাধ্যম।
সম্প্রতি প্রভাবশালীরা কালভার্টটির মুখে মাটি ফেলে পানি প্রবাহ পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে ফেলে। পানি নিষ্কাশন বন্ধ করার পরপরই সেখানে দোকানপাট তোলার কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে সেখানে বহুতল ভবন ও রেস্টুরেন্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা সংলগ্ন কালভার্টের মুখে ‘লিভলাউন্স রেস্টুরেন্ট’ গড়ে তোলায় এলাকাটিতে পানি প্রবাহ থমকে যায়।
এদিকে বিল ও লোকালয়ের পানি গোয়ালীমান্দ্রা খাল হয়ে পদ্মা নদীতে নিষ্কাশন উদ্দেশ্যে সরকার কোটি কোটি টাকা খরচে এসব কালভার্ট বানিয়েছিল। কিন্তু কালভার্ট ভরাট হয়ে যাওয়ায় বছরের প্রায় পাঁচ মাস মেদিনীমন্ডল ইউনিয়নের একাধিক ওয়ার্ডে কৃত্রিম জলজট লেগে থাকে। কালভার্টগুলোর মুখে স্থায়ী দোকানপাট গড়ে উঠলে পুরো মেদিনীমন্ডল স্থায়ীভাবে পানির নিচে আটকে যাবে।
এমতাবস্থায় মেদিনীমন্ডল ইউনিয়নের জনগণের একটাই দাবি আর কোনো কালভার্ট যেন দখল না হয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অতি দ্রুত অভিযান চালিয়ে শিকদার বাড়িসহ এক্সপ্রেসওয়ের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। একই সঙ্গে মাটি দিয়ে ভরাট করা কালভার্টের মুখগুলো পুনরায় খনন করে পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ উন্মুক্ত করার জন্য সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) ও জেলা প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।


Leave a Reply