বান্দরবানের থানচিতে সীমান্ত সড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একটি বেসামরিক ল্যান্ড ক্রুজার উল্টে গিয়ে চালক নিহত এবং দুইজন আহত হয়েছেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) আনুমানিক বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে বলীপাড়া ৩৮ বিজিবির অধীনস্থ ১৭ ইসিবির রেমংপাড়া প্রজেক্ট ক্যাম্প থেকে থানচি ফেরার পথে সীমান্ত সড়কের ১০ কিলোমিটার এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ইসিবির রেমংপাড়া প্রজেক্ট ক্যাম্প থেকে ঠিকাদার আঃ রহিমসহ কয়েকজন একটি বেসামরিক ল্যান্ড ক্রুজারে করে থানচির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে ১০ কিলোমিটার এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ গাড়িটির ব্রেক বিকল হয়ে যায়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে দ্রুতগতির গাড়িটি সড়কের ওপর উল্টে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়।
দুর্ঘটনায় গাড়ির চালক দেরাজ মিয়া (৫৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তিনি কক্সবাজারের লোহাগাড়া উপজেলার উজির হাট এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম কবির আহমদ এবং মাতার নাম আয়েশা বেগম।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন—
মোহাম্মদ কায়েম (৪০), পিতা—নুর নবী, সাং—হাসেরদীঘি, ৭ নম্বর ওয়ার্ড, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন, চকরিয়া, কক্সবাজার।
মিজান (৩২), পিতা—ফজল কবির, সাং—পালাকাটা, ৭ নম্বর ওয়ার্ড, চকরিয়া, কক্সবাজার।
দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টায় থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে উল্টে যাওয়া ল্যান্ড ক্রুজারের নিচ থেকে চালক দেরাজ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ব্রেক বিকলেই মর্মান্তিক পরিণতি
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গাড়িটির ব্রেক বিকল হয়ে যাওয়াই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। তবে প্রকৃতপক্ষে কী কারণে গাড়িটির ব্রেক বিকল হয়েছিল এবং দুর্ঘটনার জন্য কোনো ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বা অব্যবস্থাপনা দায়ী কি না—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সীমান্ত সড়কের দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা যাত্রী ও চালকদের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকির বার্তা বহন করছে। একটি প্রাণ ঝরে যাওয়ার পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও দুইজন। দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


Leave a Reply