বান্দরবানের থানচি উপজেলার বড়পাথর এলাকায় ইঞ্জিনচালিত নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর মোঃ জাওয়াদ উল ইসলাম মাহিয়ান (২৪) নামে এক পর্যটকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই ২০২৬) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে ৩৮ বিজিবির অধীনস্থ টেন্ডুমুখ ক্যাম্প সংলগ্ন নদীর ঘাটে নিখোঁজ পর্যটকের লাশ ভেসে উঠতে দেখে স্থানীয়রা বিজিবিকে খবর দেন। খবর পেয়ে বিজিবির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করেন। বর্তমানে মরদেহটি টেন্ডুমুখ বিজিবি ক্যাম্পের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এর আগে গত ২৪ জুলাই বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে থানচি উপজেলার বড়পাথর এলাকায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে গেলে পর্যটক মোঃ জাওয়াদ উল ইসলাম মাহিয়ান নিখোঁজ হন। ঘটনার পর নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধানে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।
নিখোঁজের পরদিন ২৫ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্যের একটি প্রশিক্ষিত ডুবুরি দল থানচিতে পৌঁছায়। তাদের সঙ্গে থানচি ফায়ার সার্ভিসের আরও পাঁচজন সদস্য যোগ দিয়ে মোট আটজন ডুবুরি নদীতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়েও সেদিন নিখোঁজ পর্যটকের কোনো সন্ধান মেলেনি।
অবশেষে ২৬ জুলাই সকালে টেন্ডুমুখ ক্যাম্প সংলগ্ন নদীর ঘাটে ভেসে ওঠে নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন।
নিহত মোঃ জাওয়াদ উল ইসলাম মাহিয়ান (২৪) ময়মনসিংহ জেলার মাসকান্দা এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মোঃ হেলাল উদ্দীন এবং মাতার নাম মোছাঃ দেলোয়ারা আক্তার।
নৌকাডুবির ঘটনায় পর্যটকের নিখোঁজ হওয়া এবং দুই দিন পর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পর্যটকবাহী নৌযানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নৌযান চলাচলে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিশ্চিত করা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


Leave a Reply