বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হুথিদের হামলা বন্ধে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদির থানচিতে নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা দিল ৩৮ বিজিবি পাহাড়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে সাফল্যের আশাবাদ পার্বত্যমন্ত্রীর পেঁপে চাষ করে স্বাবলম্বী, সরিষাবাড়ীর দুই যুবক থানচি নারী ফুটবল দলের সংবর্ধনা, প্রধান অতিথি মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী এমপি কুমিল্লায় প্রাইভেটকার থেকে ২৪ কেজি গাঁজাসহ আটক-২ পাহাড়ে স্বাবলম্বিতার নতুন স্বপ্ন, দীঘিনালায় ৭ অসহায় পরিবারকে ছাগল দিল সেনাবাহিনী টুঙ্গিপাড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে যুব সমাবেশ নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এই প্রতিপাদকে সামনে রেখে জামালপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়েছে সরিষাবাড়ীতে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের ১১৮তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন কুলিয়ারচরে ব্যতিক্রমী উদ্যোগে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

পাহাড়ে স্বাবলম্বিতার নতুন স্বপ্ন, দীঘিনালায় ৭ অসহায় পরিবারকে ছাগল দিল সেনাবাহিনী

মাসুদ রানা, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
  • Update Time : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৬ সময় দেখুন
৩৩

দুর্গম পাহাড়ি জনপদের অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টিতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই অংশ হিসেবে দীঘিনালা উপজেলার দুর্গম রাম রতন কারবারি পাড়ায় সাতটি অসহায় পাহাড়ি পরিবারের মাঝে গবাদিপশু হিসেবে ছাগল বিতরণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ সুবিধাবঞ্চিত পরিবার গুলোর জীবিকায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দীঘিনালা জোনের জোন অধিনায়কের নির্দেশনায় আলমগীর টিলা আর্মি ক্যাম্পের তত্ত্বাবধানে এ ছাগল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় সাতটি পরিবারের প্রত্যেককে দুটি করে মোট ১৪টি ছাগল দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে দীঘিনালা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি চিকিৎসক, জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান, কারবারি, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং উপকারভোগী পরিবারের সদস্যসহ প্রায় ২৫ জন উপস্থিত ছিলেন।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অনেক দরিদ্র পরিবারের জন্য নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সীমিত আর্থিক সামর্থ্য, যোগাযোগব্যবস্থার অসুবিধা এবং কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক পরিবারকে জীবিকা নির্বাহে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয়। এমন বাস্তবতায় গবাদিপশু বিতরণের মতো উদ্যোগ পরিবারগুলোর বিকল্প আয়ের উৎস তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।

ছাগল পালন তুলনামূলকভাবে কম জায়গায় এবং সীমিত পুঁজি দিয়ে শুরু করা সম্ভব। সঠিক পরিচর্যা, নিয়মিত টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে ছাগল বড় হওয়ার পর বিক্রি করে আয় করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ছাগলের বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিবারের গবাদিপশুর সংখ্যা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে স্থায়ী সম্পদ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো, শিশুদের শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচ জোগানো এবং আর্থিক সংকট মোকাবিলায় সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং উপকারভোগী পরিবারগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি জনপদে বসবাসরত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জীবিকার সুযোগ সৃষ্টির এ ধরনের কার্যক্রম স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ছাগল পেয়ে উপকারভোগী পরিবারগুলো দীঘিনালা জোনের জোন অধিনায়কের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও দীঘিনালা জোনের প্রতি ধন্যবাদ জানান তাঁরা।

স্থানীয়দের মতে, দুর্গম এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এ ধরনের মানবিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবাদিপশু বিতরণের পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পরিচর্যা ও রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে পরিবারগুলো দীর্ঘমেয়াদে আরও বেশি উপকৃত হবে।

দেশের পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ। দীঘিনালা জোনের এ উদ্যোগ দুর্গম এলাকার দরিদ্র মানুষের জীবনে স্বাবলম্বিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করার পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD