চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে পেঁপে চাষে নেমেছেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার দুই যুবক মোঃ আব্দুল হাকিম ও মোঃ আবু হাসান। উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামের দুই যুবক ২ বিঘা জমিতে পেঁপে চাষের প্রকল্প গড়ে তুলে তাঁরা স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁদের এ উদ্যোগে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
দুই যুবকের মধ্যে একজন মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতনের এনজিওর রিজিওনাল ম্যানেজার (আরএম) পদের চাকরি ছেড়ে পেঁপে চাষের প্রকল্প শুরু করেছেন। প্রচলিত চাকরির জীবন ছেড়ে কৃষিতে বিনিয়োগের এমন উদ্যোগ এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
আব্দুল হাকিমের পিতার নাম মৃত ওমর আলী এবং আবু হাসানের পিতার নুরুল ইসলাম। তাঁরা দুজনই সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।
২১ বিঘা জমিতে পেঁপে চাষের এ প্রকল্পে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন। এতে একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তবে পেঁপে চাষ করতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন এ দুই উদ্যোক্তা। বিশেষ করে সার, কীটনাশক ও পেঁপের বীজের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ রয়েছে। কৃষি উপকরণের উচ্চমূল্য তাঁদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
কৃষি উপকরণের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে পেঁপে চাষ আরও লাভজনক হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সরিষাবাড়ীর এ দুই যুবকের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে। পরিকল্পিতভাবে বাণিজ্যিক কৃষিতে বিনিয়োগ করতে পারলে কৃষিকাজ যে আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের কর্মসংস্থানেরও পথ খুলে দিতে পারে, তাঁদের উদ্যোগ তারই একটি উদাহরণ।


Leave a Reply