দেশি কাজু বাদামের ভালো ফলন ও বাজারে চাহিদা থাকায় সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছেন বান্দরবানের চাষিরা। জেলার সব উপজেলায় চাষ হলেও রুমা ও থানচিতে চাষ বেশি। একসময় শুধু জুম চাষে জীবিকা চললেও এখন স্থায়ী ফলদ বাগানের দিকে ঝুঁকছেন পাহাড়িরা।
থানচিতে রাস্তার দু’ধারে এখন ছোট-বড় কাজু বাগান। জ্যৈষ্ঠ মাসে লাল-হলুদ রঙের থোকা থোকা পাকা কাজু ঝুলতে দেখা যায়। স্থানীয় ভাষায় এর নাম ‘টাম’।
রুমার বলিপাড়ার বিদ্যামনি পাড়ার চাষি *ফোসা উ মারমা* বলেন, “১২ বছপাহাড়ে আয়ের হাতছানি দিচ্ছে কাজুবাদাম, বদলাচ্ছে লামার কৃষি চিত্র,
অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর কাজুবাদাম চাষে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছে পাহাড়ে। পাহাড়ের আবহাওয়া ও মাটি কাজু চাষের উপযোগী হওয়ায় কৃষি বিভাগের উদ্যোগে বান্দরবানে বাড়ছে চাষ।
স্থানীয় নামে এর বৈচিত্র্য রয়েছে। মারমা ভাষায় ‘বাদাংসি’, ত্রিপুরা ভাষায় ‘বাদাম-বাথাই’, চাকমা ভাষায় ‘তাজুবাদাম’, বম ভাষায় ‘ক্যাশনাক’ আর চট্টগ্রামের ভাষায় ‘টামগুলা’ নামে পরিচিত।
কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, লামা উপজেলায় ১৬৫ জন কৃষককে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ, চারা, সার ও কীটনাশক দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৬০ একর জমিতে ৩১ হাজার ৭৬১টি গাছ রোপণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪ হাজার ৩০০ গাছে ০.৩১ মেট্রিক টন ফলন এসেছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, কাজু শুধু বাদাম নয়। এর খোসা থেকে জৈব বালাইনাশক, ভিনেগার, এর ফল (কাজু অ্যাপল) থেকে জুস তৈরি সম্ভব। এই জুসে কমলালেবুর চেয়ে ৬ গুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে। প্রতি ৩.৫-৪ কেজি খোসাযুক্ত বাদাম থেকে ১ কেজি প্রক্রিয়াজাত বাদাম পাওয়া যায়, যার বাজার মূল্য ৮০০-১২০০ টাকা।
বান্দরবানে প্রথম চারা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এলএ অ্যাগ্রো লিমিটেডের এমডি ইফতেখার সেলিম জানান, তারা কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম থেকে ৬ লাখ উন্নত বীজ এনে চারা উৎপাদন করছেন।
লামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা
র আগে কৌতূহল থেকে ৫ একরে কাজু লাগিয়েছিলাম। ৪ বছরেই ফলন এসেছিল। আগে বাগানেই পঁচে যেত। এখন কোম্পানির লোকেরা বাগানে এসে কিনে নিয়ে যায়। গত বছর ৫০ মণ বিক্রি করেছি, এ বছর ৮০ মণ পেয়েছি, মণ ৩৫০০ টাকায়।”
থানছির *উবামং মারমা* বলেন, “এ বছর ৪৫ মণ আশা করছি, ২০ মণ বিক্রি করেছি।”
বাগান পাড়ার কর্ণজয় ত্রিপুরা* জানান, তার ২০০ গাছ আছে। ১০-১২ মণ আশা করছেন। “এলাকায় কাজু চাষের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। সরকার শুষ্ক মৌসুমে পানি ও সারের সহযোগিতা দিলে আরও ভালো হতো।”
বাংলাদেশ এগ্রিকালচার প্রোডাক্টসের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর *রেম্বো ত্রিপুরা* জানান, তারা ৩৩০০-৩৫০০ টাকা মণে কিনছেন।
কৃষি অফিস সূত্রে, বান্দরবানে ২৮৮২ জন চাষি ১৮৩৭ হেক্টর জমিতে কাজু চাষ করছেন। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১২১২ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছিল, চলতি অর্থবছরে লক্ষ্য ১৩২৩ মেট্রিক টন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম* বলেন, “চারা লাগানোর ৩-৫ বছরে ফলন আসে, রোগবালাই কম। পাহাড়ের মাটি কাজুর জন্য উপযোগী। চাষিদের সার, উপকরণ ও পরামর্শ দিচ্ছি।


Leave a Reply