০৯সেপ্টেম্বর ২০২৬ বান্দরবান
গ্রামের রাস্তার দুপাশে, দূরের পাহাড়ের ঢালে ঢালে এখন শুধু সোনালি আর সোনালি।
বাতাসে পাকা ধানের গন্ধ। জুমঘরগুলো আবার জেগে উঠেছে।
জুম মানে শুধু ধান না এটা জীবন:-
রোয়াংছড়ির তারাছার রিং লট ম্রো পুলিশের চাকরি ছেড়ে ফিরেছেন বাপ-দাদার পেশায়।
তার জুমে ধানের সাথে হয় বেগুন, মারফা, তিল, যব, ভুট্টা, চিনাল, মরিচ, রোজেলা মোট ৩০-৩৫ পদের ফসল।
তার কথা: “বাজার থেকে কিনতে হয় শুধু লবণ আর শুঁটকি”।
নারী শ্রমিক সংডং ম্রো বলেন: “জুম না করলে আমরা কী খাব? এটা আমাদের ঐতিহ্য ।
প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ:-
নভেম্বর-ডিসেম্বর: জায়গা বাছাই
জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি: জঙ্গল কাটা
মার্চ-এপ্রিল: জঙ্গল পোড়ানো
বৈশাখ: বৃষ্টি এলেই বীজ বপন
আগস্ট-সেপ্টেম্বর: ধান কাটা শুরু
ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি: নতুন ধানের নবান্ন উৎসব।
কৃষি বিভাগ বলছে: রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, আলীকদমে কাটা শুরু। বাকিগুলোতে পর্যায়ক্রমে হবে। উন্নত জাতের ধান চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
পাহাড়ের কাছে এই ধান শুধু খাবার না।
এটা প্রজন্মের ঐতিহ্য। এটা অস্তিত্ব। এটা সোনালি গর্ব।
বান্দরবানের সাতটি উপজেলার পাহাড়ি ঢালে এখন দুলছে জুমের পাকা ধান। গ্রামীণ সড়কের দুপাশে আর দূর পাহাড়ে সোনালি রঙের সমারোহ। কোথাও শুরু হয়েছে ধান কাটা, কোথাও চলছে শেষ প্রস্তুতি।
কৃষি বিভাগের তথ্য: ২০২৪-২৫ অর্থবছর: ৮,২৬৭ হেক্টরে উৎপাদন ১২,৪৯৯ মেট্রিক টন।
২০২৫-২৬ অর্থবছর লক্ষ্যমাত্রা:১,৮৯৫ হেক্টর, উৎপাদন প্রত্যাশা প্রায় ২০,০০০ মেট্রিক টন।
বৈশাখের শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। তবে অসম বৃষ্টিপাতের কারণে এলাকাভেদে পাকার সময় ভিন্ন।
মাঠের চিত্র:রোয়াংছড়ির তারাছা ইউনিয়নের যামিনীপাড়ায় সপরিবারে ধান কাটায় ব্যস্ত জুমচাষিরা। জুমে ধানের পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া, ভুট্টা, মারফা, চিনাল সহ ৩০-৩৫ ধরনের সাথি ফসল হয়।
বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ তৌফিক আহমেদ নূর জানান, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি ও আলীকদমের দুর্গম এলাকায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। উৎপাদন বাড়াতে স্থানীয় জাতের পাশাপাশি উন্নত ও হাইব্রিড জাতের ধান চাষে চাষিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
জুম চাষ বান্দরবানের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কাছে শুধু খাদ্য নিরাপত্তা নয়, এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলা জীবন ও সংস্কৃতির প্রতীক।
পাহাড়ে এখন সোনালি ঢেউ
“আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম” এর আরেকটা রূপ -জুমের নবান্নের দিন ফিরে আসছে!


Leave a Reply