শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইসলামপুরে যুবদল নেতাকে ‘ফাঁসানোর’ প্রতিবাদে চরপুটিমারী: মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) কর্তৃক মালিকবিহীন ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং বাংলাদেশী যৌন উত্তেজক সিরাপ আটক সম্প্রীতির বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ কৃষকদের সমস্যা সমাধানে পবিপ্রবিতে “ওয়ানস্টপ সার্ভিস” চালু করা হবে–পবিপ্রবি ভিসি প্রফেসর হেমায়েত জাহান রাজাপুরে নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে ব্র্যাকের পেশাদার ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ শুরু বায়না ও টাকা নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি না করে পালানোর অভিযোগ বাগেরহাট কারাগারে খাবার গলায় আটকে হাজতির মৃত্যু আমার নির্বাচনী এলাকায় কোনো উন্নয়ন কাজ অবশিষ্ট থাকবে না: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, এমপি পাহাড়ের শিক্ষায় ই-লার্নিং, আর কোনো বৈষম্য থাকবে না: প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার হেলাল কুড়িগ্রাম সদরে নিজ শোয়ার ঘরে কলেজ ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ঝালকাঠির জনপ্রিয় গীতিকার কবি ডাঃ জহিরুল ইসলাম বাদল এর লেখা কালজয়ী উপন্যাস “মেঘনার মাঝি” চলছে সারা দেশে

আলমগীর শরীফ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
  • Update Time : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫০ সময় দেখুন
৬৬

ঝালকাঠির সনামধন্য বিশিষ্ট গীতিকার, সুরকার, কবি ও কথাসাহিত্যিক ডাঃ জহিরুল ইসলাম বাদল ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা। এপর্যন্ত তার লেখা গ্রাম-গঞ্জের পরিচ্ছন্ন বাংলা সংস্কৃতির বিভিন্ন ধরনের প্রায় ০৯ টি বই ইতোমধ্যে প্রকাশকরা হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কালজয়ী উপন্যাস “মেঘনার মাঝি” নামে একটি প্রকাশিত বই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে দেশ ছেড়ে বিদেশেও। বইটি প্রকাশিত হয়েছিলো ২০০৮ ইং সনে। নিম্নে উল্লেখিত বইটির কিছুটা ধারনা উল্লেখ করা হইলো।
“মেঘনার মাঝি”
সারসংক্ষেপ
পর্ব ১
১৯৮০ সালের শ্রাবণ মাস। মেঘনা নদীর কোল ঘেঁষা ইলশা গ্রাম। গ্রাম জুড়ে জেলেদের বসবাস। নদীই তাদের জীবন।
বোরহান মাঝি, তার স্ত্রী ময়ফুলি, সাত বছরের ছেলে আব্দুল ও সত্তর বছরের বৃদ্ধা মা কে নিয়ে ছোট্ট নৌকায় বাস।
এক রাতে ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ে মেঘনা ফুলে ওঠে। নৌকা ডুবে যায়। বোরহান, ময়ফুলি ও দাদী পানিতে তলিয়ে মারা যায়। শুধু আব্দুল একটা কাঠ আঁকড়ে ভাসতে থাকে।
পর্ব ২-৩
ভোরে মালো পাড়ার নিঃসন্তান দম্পতি সুধির মালো ও শেফালী দেবী আব্দুলকে উদ্ধার করে। আব্দুলকে তারা নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করে।
আব্দুল ধীরে ধীরে সুধিরের কাছে নৌকা চালানো, জাল ফেলা শেখে। “বাপজান-মা” ডেকে নতুন সংসারে ভালোবাসা পায়। কিন্তু বুকের ভেতর বাবা-মা হারানোর কষ্ট থেকেই যায়।
পর্ব ৪-৫
আব্দুল যখন বড় হয়, তখন পাড়ার লোকজন জেনে যায় সে “শেখের ছেলে”। হিন্দু সুধিরের ঘরে মুসলমান ছেলে থাকায় মাতবর ও পুরোহিত একঘরা করার হুমকি দেয়।
অপমানের ভয়ে আব্দুল এক রাতে ঘর ছেড়ে চলে যায়। নদীতে ঝাঁপ দিতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়।
পর্ব ৬-৭
ইলশা ঘাটের সিদ্দিক মাঝি আব্দুলকে উদ্ধার করে নিজের বাড়ি নিয়ে যায়। সিদ্দিক ও তার স্ত্রী রহিমার কাছে আব্দুল বড় হয়। ১৫ বছর পর আব্দুল ২২ বছরের যুবক। সে হয়ে ওঠে “মেঘনার মাঝি” – ইলশা ঘাটের সবচেয়ে দক্ষ ও বিশ্বস্ত খেয়া মাঝি।
পর্ব ৮-১০
ইলশা গ্রামের “শেখ পাড়া কওমি মাদ্রাসা”র ছাত্রী জুলেখা। প্রতিদিন আব্দুলের নৌকায় নদী পার হয়। ঝড়ের দিন আব্দুল নিজের জীবনবাজি রেখে জুলেখাকে সাহায্য করে।
আস্তে আস্তে দুজনের মধ্যে নীরব ভালোবাসা জন্মায়। নৌকায় দুই-একটা কথা, চোখের চাওয়া, আর মেঘনার ঢেউ সাক্ষী থাকে।
পর্ব ৯, ১-১৪
জুলেখার বাবা মোমেন মহাজন, এলাকার প্রভাবশালী ধনী। সে মেয়েকে আলেমা বানাতে চায়।
গ্রামের হুজুর ও মাতবর “স্কুল-কলেজ হারাম” বলে মাদ্রাসাই ঠিক রাখে।
যখন আব্দুল-জুলেখার সম্পর্কের কথা ছড়ায়, তখন মোমেন মেয়েকে “জীনে ধরছে” বলে ওঝা-ফকির দেখায়। জোর করে বড়চরের রফিক শেখের সাথে বিয়ে ঠিক করে।
বিয়ের আগের রাতে জুলেখা আব্দুলকে চিঠি লিখে না আসতে বলে। কিন্তু মন মানে না।
পর্ব ১৮-১৯
বিয়ের দিন রাতে জুলেখা বাড়ি থেকে পালিয়ে মধুখালি ঘাটে আসে। আব্দুল তাকে নৌকায় তুলে ইলশা ঘাটে নিয়ে যায়।
সিদ্দিক চাচার বাড়িতে ইমাম ও সাক্ষীদের সামনে তাদের বিয়ে হয়। গ্রামবাসী প্রথমে সমালোচনা করলেও পরে তাদের ভালোবাসা মেনে নেয়। মেঘনার পাড়ে উৎসব হয়।
পর্ব ২০-২১
বিয়ের এক বছর। আব্দুল-জুলেখার ছোট্ট সংসার। জুলেখা অন্তঃসত্ত্বা। দুজনের জীবনে নেমে আসে শান্তি।
এক কার্তিকের রাতে জুলেখার প্রসূতি ব্যথা ওঠে। ডাক্তার আনতে আব্দুল “জুলেখা” নামের নৌকা নিয়ে মেঘনায় বের হয়।
সাথে মাল্লা কাদের। মাঝ নদীতে আরেকটি ভয়ংকর ঝড় আসে। নৌকা ডুবে যায়। আব্দুল ও কাদের নিখোঁজ।
একই রাতে জুলেখা কন্যা সন্তান জন্ম দিয়ে মারা যায়।
শেষে জুলেখার বাবা মোমেন মহাজন নাতনীকে কোলে তুলে নেয়। মেয়ের নাম রাখে “মেঘনা”। নদী যার কাছ থেকে সব কেড়ে নিলো, সেই নদীর নামেই নাতনীর নাম।
উপন্যাসের মূলভাব-
“মেঘনার মাঝি” শুধু একটা প্রেমের গল্প না। এটা নদীর সাথে মানুষের যুদ্ধ, দারিদ্র্য, জাত-ধর্মের সংকীর্ণতা, আর প্রকৃতির নির্মমতার গল্প।
মেঘনা এখানে একটা চরিত্র। কখনো সে মা, কখনো সে ঘাতক। সে জীবন দেয়, আবার জীবন কেড়ে নেয়।
আব্দুল-জুলেখার ভালোবাসা সমাজের বাধা টপকায়, কিন্তু মেঘনার ঢেউয়ের কাছে হেরে যায়।
পরিশেষে থেকে যায় ছোট্ট “মেঘনা” – নতুন প্রজন্মের প্রতীক।
গ্রন্থটি ২০০৮ সালে “বইপত্র প্রকাশনী” বাংলাবাজার ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটি সমগ্র দেশের স্হানীয় লাইব্রেরিতে পাওয়া যায়, এছাড়াও এটি অনলাইনে “বিক্রয় ডটকম” থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD