মোঃ হাচান আল মামুন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় টানা সাত দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার (১০ জুলাই) উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া বন্যার্ত পরিবারের মাঝে বিরিয়ানি ও রাতের খাবার বিতরণ করা হয়।
টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বোয়ালখালী, কবাখালী ও মেরুং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসন ৪৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করেছেন । এর মধ্যে মেরুং ইউনিয়নের তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত বন্যার্ত পরিবারের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, দীঘিনালা উপজেলা শাখার উদ্যোগে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়।
খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা শাখার আমীর অধ্যাপক সাইয়্যেদ আব্দুল মোমেন, দীঘিনালা উপজেলা আমীর মাওলানা হেলাল উদ্দিন, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা জহিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল মান্নান, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য মো. আক্কাস আলী এবং দীঘিনালা উপজেলা জামায়াতের বায়তুলমাল সম্পাদক বেলাল হোসাইন।
এ সময় জেলা আমীর অধ্যাপক সাইয়্যেদ আব্দুল মোমেন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের শিক্ষা ও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বন্যাকবলিত মানুষকে একা ফেলে রাখা যাবে না। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই জামায়াতে ইসলামী দুর্গত মানুষের পাশে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
দীঘিনালা উপজেলা আমীর মাওলানা হেলাল উদ্দিন বলেন, “উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনও অনেক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। তাদের কাছে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দীঘিনালা উপজেলা শাখা দুর্যোগকালে অসহায় মানুষের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত বন্যার্তরা এ ধরনের মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুর্যোগের এই সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের সহযোগিতা তাদের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব করছে।


Leave a Reply