মোঃ হাচান আল মামুন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি।
টানা সাত দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় প্রায় তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। অনেক পরিবারের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় তারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।
অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ধসের আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন দীঘিনালার ৪৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে বর্তমানে ২১টি আশ্রয়কেন্দ্রে পানিবন্দি শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের জন্য উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে খাদ্য ও জরুরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন, বাবুছড়া ব্যাটালিয়ন (৭ বিজিবি), উপজেলা বিএনপি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তারা আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে দীঘিনালা-মাইনী-লংগদু সড়ক এবং দীঘিনালা-কবাখালী সড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়া যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন , বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে এবং দুর্যোগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে


Leave a Reply