মোছা:নিলুফা আক্তার নীলা,কুলিয়ারচর প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলায় জুয়েল মিয়া (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকালে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা বাজার সংলগ্ন এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত জুয়েল মিয়া গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর বুধাইবাড়ি গ্রামের অটোরিকশা চালক মো. কুদ্দুস মিয়ার ছেলে।
প্রাথমিক ভাবে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর ও বড়চারা এলাকার কয়েকজন যুবকের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। নিহত জুয়েল সম্পূর্ণ নিরপরাধ ছিলেন এবং ওই বিরোধের সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এমন দাবী এলাকাবাসীর। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ- কোনো অপরাধ বা বিরোধে জড়িত না থেকেও কেবল পরিস্থিতির শিকার হয়ে অকালে প্রাণ হারাতে হলো এক নিরপরাধ যুবককে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকালে জুয়েল তার এক বন্ধুর একটি ডিমের গাড়িতে চড়ে আগরপুর বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা বাজারের প্রায় ১০০ গজ পশ্চিমে, পশ্চিম আব্দুল্লাহপুর যাওয়ার মোড়ে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত গাড়িটির গতি রোধ করে জুয়েলকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় এলোপাতাড়ি মারধর করতে শুরু করে। হামলায় জুয়েল গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে উপস্থিত পথচারীরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জুয়েলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে লক্ষ্মীপুর বাজার ও বুধাইবাড়ি গ্রামে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল এবং নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় বর্তমানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমি পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল ও নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। হত্যার কারণ উদঘাটনে পুলিশ মাঠে রয়েছে। দোষীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।


Leave a Reply