শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইসলামপুরে যুবদল নেতাকে ‘ফাঁসানোর’ প্রতিবাদে চরপুটিমারী: মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) কর্তৃক মালিকবিহীন ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং বাংলাদেশী যৌন উত্তেজক সিরাপ আটক সম্প্রীতির বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ কৃষকদের সমস্যা সমাধানে পবিপ্রবিতে “ওয়ানস্টপ সার্ভিস” চালু করা হবে–পবিপ্রবি ভিসি প্রফেসর হেমায়েত জাহান রাজাপুরে নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে ব্র্যাকের পেশাদার ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ শুরু বায়না ও টাকা নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি না করে পালানোর অভিযোগ বাগেরহাট কারাগারে খাবার গলায় আটকে হাজতির মৃত্যু আমার নির্বাচনী এলাকায় কোনো উন্নয়ন কাজ অবশিষ্ট থাকবে না: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, এমপি পাহাড়ের শিক্ষায় ই-লার্নিং, আর কোনো বৈষম্য থাকবে না: প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার হেলাল কুড়িগ্রাম সদরে নিজ শোয়ার ঘরে কলেজ ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

থানচিতে সাঙ্গুর উজানে তুরুর্গু স্বং: হাজারো মানুষের যাতায়াতে নিত্যদিনের মরণফাঁদ

থানচি, বান্দরবান,প্রতিনিধি।।
  • Update Time : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪২ সময় দেখুন
৪৯

বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম রেমাক্রী ইউনিয়নের বড়মদুক এলাকার সাঙ্গু নদীর উজানে ‘তুরুর্গু স্বং’ এখন স্থানীয় হাজারো মানুষের যাতায়াতে নিত্যদিনের মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রবল স্রোত, নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং তলদেশে জমে থাকা বিশাল বড় পাথরের স্তূপের কারণে এই নৌপথে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। জীবন ও জীবিকার তাগিদে চরম আতঙ্ক মাথায় নিয়েই প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সদরের সঙ্গে রেমাক্রী ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র প্রধান মাধ্যম হলো সাঙ্গু নদীপথ। শিক্ষা, চিকিৎসা, নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার-সদাই কিংবা যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে এই জলপথ ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। কিন্তু বর্ষা মৌসুম কিংবা শুষ্ককাল—সব সময়ই এই এলাকায় নৌযান চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
​গত ২০২৪ সালের বর্ষায় ভারী বর্ষণের ফলে সাঙ্গু নদীর উজানে পাহাড় ধসে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয় এবং বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও গভীর খাদের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে তুরুর্গু স্বং এলাকায় গিরিখাদ ধসে নদীর তলদেশে বিশাল আকৃতির পাথরের স্তূপ জমেছে।
​ইঞ্জিনচালিত নৌকার চালক মংমংসে মারমা ও ওয়াইন মংসিং মারমা জানান, বর্ষার সময় পাহাড়ি ঢল ও ভয়াল স্রোতে জায়গাটি মরণফাঁদ রূপ নেয়। এমনকি শুষ্ক মৌসুমেও নদীর বুকজুড়ে থাকা বিশাল পাথরের কারণে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ব্যাহত হয়। সামান্য ভুলের কারণে স্রোতের টানে নৌকা পাথরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যাওয়ার শঙ্কা থাকে।
​দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত এই পাথরগুলো অপসারণ ও নদীপথ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা মংমে মারমা, জিনিঅং মারমা ও চসিংমং মারমাসহ অনেকে। তাদের মতে, তলদেশের এই পাথরগুলো অপসারণ করা হলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ফিরে আসবে এবং নৌ চলাচলও ঝুঁকিমুক্ত হবে।
​এদিকে তুরুর্গু স্বংয়ের এই পরিস্থিতি নিয়ে বান্দরবান জোনের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুহাম্মদ রুবায়াত জামিল বলেন, ২০২৪ সালে বড়মদুক এলাকায় সাঙ্গু নদীর ভাঙনে গতিপথ পরিবর্তনের ফলে নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি সেনাজান টহল দলের নৌকাও সেখানে ডুবে যায় এবং খরস্রোতে তলিয়ে যাওয়া অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধারে চার দিন সময় লেগেছিল।
​তিনি আরও জানান, ১৭ ইসিবিসহ যৌথ উদ্যোগে দ্রুত বড় পাথরগুলো অপসারণ করে নৌযান চলাচলের স্বাভাবিক পথ ফিরিয়ে আনা হবে। আগামী জানুয়ারিতে পানির স্তর কমলে এই সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হবে, যার মাধ্যমে দুর্গম এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগঝুঁকি স্থায়ীভাবে নিরসন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD