জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর হাতীভাঙ্গা ইউনিয়নের আমখাওয়া পূর্বপাড়া গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পবিত্র কুরআনের হাফেজ চান সওদাগর (৫৬)। স্ত্রী ও সন্তানসহ পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনাহার-অর্ধাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে পবিত্র কুরআন হিফজ করলেও বর্তমানে অভাবের কাছে অসহায় হয়ে সমাজের বিত্তবান মানুষ ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাত্র চার বছর বয়সে গুটি বসন্তে আক্রান্ত হয়ে দুই চোখের দৃষ্টি হারান চান সওদাগর। এরপর থেকেই দৃষ্টিহীনতার সঙ্গে সংগ্রাম করে বেড়ে ওঠেন তিনি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বাবা মুনছর আলীকে পাকিস্তানি সেনারা ধরে নিয়ে যায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে বাংলাদেশ বলায় তাকে গুলি করে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় অসুস্থ হয়ে মারা যান তার মা। অল্প বয়সেই বাবা-মাকে হারিয়ে এতিম হয়ে পড়েন চান সওদাগর।
এ সময় এক বিদেশি ইংরেজ নারী তার পাশে দাঁড়ান। তিনি চান সওদাগরকে হাতীভাঙ্গা ইউনিয়ন থেকে ঢাকার আসাদগেট এলাকার একটি বিদ্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে হাতের স্পর্শের মাধ্যমে লেখাপড়া শেখার সুযোগ পেয়ে তিনি দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ওই নারী নিজ দেশে ফিরে গেলে আবারও অনিশ্চয়তায় পড়ে তার জীবন।
পরবর্তীতে ঢাকার তেজগাঁও ইসলাম মিশনে ভর্তি হয়ে ব্রেইল পদ্ধতিতে পবিত্র কুরআন মাজিদ মুখস্থ করেন তিনি। পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষাও অর্জন করেন। এরপর মসজিদ-মাদরাসায় সময় কাটিয়ে ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন।
২০২১ সালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসার পেছনে তার সামান্য সঞ্চয়টুকুও শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার ছেলে সিরাজুল ইসলাম। তিনি ভাড়ায় মিশুক ভ্যান চালিয়ে দৈনিক ২০০-৩০০ টাকা আয় করেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে সামান্য এই আয় দিয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবারের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
চান সওদাগর বলেন, জীবনে অনেক কষ্ট সহ্য করে পবিত্র কুরআন হিফজ করেছি। বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, দানশীল মানুষ, বিভিন্ন এনজিও ও সরকারের কাছে তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আকুতি জানিয়েছেন।
সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা:
শিরিনা বেগম সঞ্চয়ী হিসাব নং: ৬৯৪৯
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, জামালপুর শাখা। বিকাশ/নগদ: ০১৯২৬৬৮৫২৯৯
একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হাফেজ ও তার অসহায় পরিবারের পাশে সহৃদয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে তাদের জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে-এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।


Leave a Reply