শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইসলামপুরে যুবদল নেতাকে ‘ফাঁসানোর’ প্রতিবাদে চরপুটিমারী: মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) কর্তৃক মালিকবিহীন ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং বাংলাদেশী যৌন উত্তেজক সিরাপ আটক সম্প্রীতির বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ কৃষকদের সমস্যা সমাধানে পবিপ্রবিতে “ওয়ানস্টপ সার্ভিস” চালু করা হবে–পবিপ্রবি ভিসি প্রফেসর হেমায়েত জাহান রাজাপুরে নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে ব্র্যাকের পেশাদার ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ শুরু বায়না ও টাকা নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি না করে পালানোর অভিযোগ বাগেরহাট কারাগারে খাবার গলায় আটকে হাজতির মৃত্যু আমার নির্বাচনী এলাকায় কোনো উন্নয়ন কাজ অবশিষ্ট থাকবে না: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, এমপি পাহাড়ের শিক্ষায় ই-লার্নিং, আর কোনো বৈষম্য থাকবে না: প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার হেলাল কুড়িগ্রাম সদরে নিজ শোয়ার ঘরে কলেজ ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

বান্দরবানের লামায় ২৪ বছর ধরে শিকলে বাঁধা হাতি বাহাদুর

বান্দরবান প্রতিনিধি।।
  • Update Time : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬৫ সময় দেখুন
৭৪

স্বাধীনতা কিংবা মুক্তির স্বাদ—এসব যেন ভুলেই গেছে ‘বাহাদুর’। প্রায় ৩৮ বছর বয়সী এই পোষা হাতিটি দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে পায়ে লোহার শিকল বাঁধা অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার মাহুত। বান্দরবানের লামা উপজেলার দুর্গম ঘিলাপাড়া এলাকায় গাছ টানার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে হাতিটি।
মাহুত সিফারের তথ্য অনুযায়ী, হাতি বাহাদুরকে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার টাকায় গাছ টানার কাজে ভাড়া দেওয়া হয়। একেক দিন একেক এলাকায় নিয়ে গিয়ে তাকে ভারী গাছ টানানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাতিটির মালিকের বাড়ি সিলেটে। লামা উপজেলায় গাছ টানার কাজে ব্যবহৃত হাতিগুলোর সিলেট বন বিভাগের অধীনে লাইসেন্স রয়েছে বলেও তিনি জানান।

সরেজমিনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, লামা সদর ইউনিয়নের দুর্গম ঘিলাপাড়া এলাকায় বাহাদুরকে গাছ টানার কাজে ব্যবহৃত অবস্থায় দেখা গেছে। হাতিটির পায়ে শিকল ব্যবহারের বিষয়টিও সরেজমিনে দেখা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাতিটিকে শিকলে বেঁধে রাখা, ভারী গাছ টানানোর কাজে ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত খাবার ও পরিচর্যা না করার কারণে তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কাজ শেষে শিকল বাঁধা অবস্থায় আশপাশের লতাপাতা খেয়েই হাতিটিকে থাকতে হয় বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

তবে হাতিটির মালিকের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। একইভাবে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে হাতিটির লাইসেন্সের বর্তমান অবস্থা, লাইসেন্সের শর্ত এবং হাতিটির পরিচর্যা ও শ্রমের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাহাদুর ছাড়াও লামা উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় আরও কয়েকটি হাতি গাছ টানার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সদর ইউনিয়নের ঘিলাপাড়ায় একটি, দোছড়ি এলাকায় দুটি, চিউনী খালের আগায় একটি, রূপসীপাড়া ইউনিয়নের লামা খালের আগায় দুটি এবং সরই ইউনিয়নের লেমুপালং ও লুলাইং এলাকায় দুটি হাতি রয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, এসব হাতির অবস্থাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা হোক। একই সঙ্গে হাতিগুলোর স্বাস্থ্য, খাবার, বিশ্রাম, শিকল ব্যবহারের ধরন এবং গাছ টানার কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

শিকল খুলে দে ভাই,
ওর পায়ে নয়, আমাদের বিবেকে লোহা লেগেছে।

পাহাড় ওর বাড়ি, গাছ ওর সাথী,
আমরা শুধু ভাড়া খাটানোর মালিক সেজেছি।
সত্যি বলতে বাহাদুর শুধু একটা হাতি না।
বাহাদুর হলো আমাদের বিবেকের আয়না। আমরা কতটা নিষ্ঠুর, কতটা লোভী – ওর শিকল দেখলেই বোঝা যায়।

বান্দরবান প্রতিনিধি-

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD