শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বান্দরবানে দুই বিতর্কিত কর্মকর্তার পুনর্বহালের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মঞ্জুয়ারা হত্যা মামলায় যুবদল নেতাকে আসামি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন রামুতে পৃথক অভিযানে প্রায় ৬০ হাজার ইয়াবাসহ দুই কারবারি গ্রেপ্তার ইসলামপুরে যুবদল নেতাকে ‘ফাঁসানোর’ প্রতিবাদে চরপুটিমারী: মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) কর্তৃক মালিকবিহীন ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং বাংলাদেশী যৌন উত্তেজক সিরাপ আটক সম্প্রীতির বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ কৃষকদের সমস্যা সমাধানে পবিপ্রবিতে “ওয়ানস্টপ সার্ভিস” চালু করা হবে–পবিপ্রবি ভিসি প্রফেসর হেমায়েত জাহান রাজাপুরে নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে ব্র্যাকের পেশাদার ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ শুরু বায়না ও টাকা নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি না করে পালানোর অভিযোগ বাগেরহাট কারাগারে খাবার গলায় আটকে হাজতির মৃত্যু

রাজশাহীতে নতুন জাতের আম কটিমন।

প্রতিবেদকের নাম
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫৮৬ সময় দেখুন
২৮

রাজশাহীতে নতুন জাতের আম কটিমন

মো: গোলাম কিবরিয়া
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

আমাদের দেশে আমের মৌসুম শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু মৌসুম শেষে বরেন্দ্র অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র। এখানে এখনো গাছে গাছে ঝুলছে সুস্বাদু আম, যেন নতুন করে শুরু হচ্ছে আমের মৌসুম। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় শত শত বাগান জুড়ে ঝুলছে থোকায় থোকায় কাটিমন আম।

কৃষিবিদদের মতে, কাটিমন বা সুইট কাটিমন হলো থাইল্যান্ড থেকে আনা একটি প্রজাতি। দেশীয় জাতের বাইরে সারাবছর চাষ করা যায় বলে এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা অনেক। মৌসুমের বাইরেও বাজারে এই আমের চাহিদা থাকে, ফলে দামও ভালো। চাষিরা বছরে দু’বার আম সংগ্রহ করতে পারেন। এজন্যই দিন দিন বাড়ছে কাটিমন চাষে আগ্রহ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আমনুরা থেকে নাচোল-আড্ডা, নওগাঁর পোরশা-নিয়ামতপুর সড়ক কিংবা তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা থেকে কলমা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অসংখ্য কাটিমন আমের বাগান। নাচোল উপজেলার লক্ষিপুর মোড়ের একটি বাগানে দেখা যায়—ছোট ছোট গাছে ঝুলছে টসটসে আম, যা পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ছে।

বাগানের মালিক টি ইসলাম বলেন, আগে তিনি সাত বিঘা জমিতে কাটিমন আম চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার সাতটি বাগানে ১৫ থেকে ১৬ হাজার গাছ রয়েছে। সবগুলোতেই ফলন আসছে। বাজারে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি আম ২০০–৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বছরে দু’বার আম সংগ্রহ করে তিনি কয়েক লাখ টাকা আয় করছেন।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার কৃষক তাবারক হোসেন জানান, আগে তিনি দেশি জাতের আম (গোপাল ভোগ, নেংড়া, ঘিরসা) চাষ করতেন। কিন্তু খরচের তুলনায় লাভ না হওয়ায় সেগুলো কেটে এখন ২৫ বিঘা জমিতে প্রায় আড়াই হাজার কাটিমন গাছ করেছেন। চলতি বছরই তিনি ভালো ফলনের আশা করছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের কৃষিবিদ ড. জহুরুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষামূলক সফলতার পর কাটিমন চাষ নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টার ও নার্সারির মাধ্যমে এই আমের চারা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা বেশি আগ্রহী।

তিনি আরও জানান, কাটিমন চাষে বাড়তি যত্ন প্রয়োজন। এটি মূলত শুষ্ক আবহাওয়ার ফসল। দেশি আমের তুলনায় কাটিমন গাছে আলাদা পরিচর্যা লাগে। মৌসুমের বাইরে ফলন চাইলে আমের মৌসুমে আসা মুকুল বা গুটি ছেঁটে দিতে হয়, যাকে বলা হয় প্রুনিং। এটি কাটিমন চাষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

বরেন্দ্র অঞ্চলের গ্রামীণ সড়ক দিয়ে যেকোনো পথচারী গেলেই দেখতে পাবেন আমে ভরা ছোট-বড় বাগান। মৌসুম শেষ হলেও গাছে ঝুলন্ত কাটিমন আম মনে করিয়ে দিচ্ছে—বরেন্দ্রে যেন বারোমাসই আমের উৎসব।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD