গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার গিমাডাঙ্গা ইউনিয়নের আজিমবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—মো. মোরসালিন (১৭), মোহাম্মদ রাকিব মোল্লা (২০), তামিম শেখ (১৫), আবির শেখ (১৮) ও মো. রইছ মোল্লা (১৮)। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গিমাডাঙ্গা মুন্সির চর ও উত্তরপাড়ার মধ্যে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে আজিমবাজার এলাকায় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা মারামারিতে গড়ায়।
আহতদের পক্ষের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের প্রায় ৫০ জনের একটি দল তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে পাঁচজন আহত হন। হামলায় মশিউর, নাহিদ, ইয়ামিন হোসেন (পাম্পু) ও রহিমসহ কয়েকজন নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে ইয়ামিন হোসেন পাম্পু বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে এর আগে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল। গজালিয়া ব্রিজের ওপর তিনি একজনকে থাপ্পড় মেরেছিলেন। পরে বড় ভাইদের মাধ্যমে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে ওই পক্ষের লোকজন আজিমবাজারে এসে তাকে মারতে গেলে তিনি আত্মরক্ষার্থে একজনকে একটি ঘুষি মারেন। এ সময় তার সঙ্গে অন্য কেউ ছিল না এবং বড় ধরনের কোনো মারামারির ঘটনাও ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, “আজিমবাজারের মারামারির ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Leave a Reply