জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র পুনর্গঠনের দাবিতে বান্দরবানের থানচি উপজেলায় গণসংহতি আন্দোলন (জেএসডি) উপজেলা শাখার উদ্যোগে বুধবার (৫ আগস্ট) এক গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকাল ১১টায় সংগঠনের উপজেলা কার্যালয় থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে থানচি বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ট্রেড সেন্টারের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, নারী, পুরুষ, তরুণ-তরুণী ও শিক্ষার্থীরা দুই শতাব্দী অংশ নেন। সমাবেশস্থলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ব্যানার প্রদর্শন করা হয় এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উ থোয়াই ওয়াং মারমা। সঞ্চালনা করেন গণসংহতি আন্দোলন থানচি উপজেলা শাখার নির্বাহী সমন্বয়কারী সিনয়া ম্রো।
প্রধান অতিথি ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের জাতি বৈচিত্র্যবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট উবা থোয়াই মারমা। প্রধান বক্তা ছিলেন থানচি উপজেলা শাখার সমন্বয়কারী মংসাই মারমা। বিশেষ বক্তব্য দেন ছাত্র ফেডারেশন থানচি উপজেলা কমিটির সদস্য অং ম্যা থোয়াই মারমা, গণসংহতি আন্দোলনের সদস্য শৈচৌওয়াং মারমা, রুমাজন ত্রিপুরা এবং রেমাক্রী ইউনিয়ন কমিটির সদস্য থংপং ম্রো।
বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বৈষম্য, দুর্নীতি, দমন-পীড়ন ও স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনা ধারণ করে জবাবদিহিমূলক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সুশাসন এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, দুর্নীতি, বৈষম্য ও রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা এবং গণঐক্য জোরদার না হলে জনগণের প্রত্যাশিত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশ শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা শহীদদের আত্মত্যাগের আদর্শ বাস্তবায়ন এবং বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বান্দরবানের থানচি বাজার ট্রেড সেন্টারের সামনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের দাবিতে গণসংহতি আন্দোলন (জেএসডি) উপজেলা শাখার আয়োজিত গণসমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ।


Leave a Reply