বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
অশ্রুসজল বিদায়, মর্ত্য ছাড়ছেন দেবী দুর্গা মহানবমী আজ, শুরু দেবীর বিদায়ের ক্ষণগণনা,কবিতার খাতায় – মা দুর্গা আরও থাকুন পূজোর ক’টা দিন শরণখোলা জুইয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পলাতক কথিত পরকীয়া প্রেমিক মাসুদ খুলনায় আটক লাখাইয়ে ৩১তম জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন সৌদি আরব নিরাপত্তা বাহিনী অবৈধ বাসিন্দাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে জলঢাকায় মানবাধিকার সংগঠনের নেতার বিরুদ্ধে স্ত্রীর এজাহার ৩০ লাখ টাকার প্রলোভন, রাশিয়ার যুদ্ধে প্রাণ গেল কুমিল্লার সাগরের আমতলীতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক তাসলিমা আক্তার বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অ্যাসল্ট কোর্স প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠিত সুন্দরবনে ২৫০ টন ইন্দোনেশিয়ার চোরাই কয়লা বোঝাই বাল্কহেড কার্গো জাহাজসহ আটক-৯

মহানবমী আজ, শুরু দেবীর বিদায়ের ক্ষণগণনা,কবিতার খাতায় – মা দুর্গা আরও থাকুন পূজোর ক’টা দিন

বান্দরবান প্রতিনিধি।।
  • Update Time : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৮ সময় দেখুন
৩৭

দেখতে দেখতে নবমীও শেষ হয়ে গেলো, কি এখন মনে হচ্ছে না অপেক্ষাটাই সুন্দর ছিলো?
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আজ মহানবমী। ৬ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের পঞ্চম দিনে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে দেবীর আরাধনা। মহানবমীর পূজা শেষেই শুরু হবে দেবীর বিদায়ের ক্ষণগণনা। আগামীকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।

নবমী তিথিতে দেবী দুর্গার মহাআরতি, বলিদান ও নবমী হোমের আয়োজন করা হয়। ১০৮টি নীলপদ্ম দিয়ে দেবীর পূজা করার রীতিও রয়েছে। পূজা শেষে ভক্তরা অঞ্জলি নিবেদন করবেন এবং প্রসাদ বিতরণ করা হবে। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি দেবীর বিদায়ের অপেক্ষায় মণ্ডপে মণ্ডপে ছড়িয়ে পড়েছে বিষাদের সুর।

হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী, দেবী দুর্গা রুদ্ররূপ ধারণ করে মহিষাসুর ও তার তিন যোদ্ধা চণ্ড, মুণ্ড এবং রক্তবীজকে বধ করেন। অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট ও নবমী তিথির শুরুর প্রথম ২৪ মিনিটের মধ্যবর্তী সময়কে সন্ধিক্ষণ বলা হয়। এ সময় অনুষ্ঠিত হয় সন্ধিপূজা। এতে দেবী চামুণ্ডার আরাধনা করা হয়। সন্ধিপূজায় ১০৮টি মাটির প্রদীপ জ্বালানো এবং ১০৮টি পদ্মফুল দেবীর চরণে নিবেদনের রীতি রয়েছে।

শারদীয় দুর্গোৎসব: “নতুন চোখে দেখবো এবার” ঐতিহাসিক রাজা মাঠে সম্প্রীতির মিলনমেলা*

শিউলি ঝরা ভোর, কাশফুলে সাদা আকাশ আর ঢাকের তালে মুখর বান্দরবানের ঐতিহাসিক রাজা মাঠ। শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে নতুন চোখে, নতুন সুরে সেজেছে পাহাড়ের পূজা।

ভোরের শিউলি ঝরা শারদ প্রভাতে চণ্ডীপাঠের সুরে জেগে উঠেছে পাহাড়ি জনপদ। ধূপের ঘ্রাণ, ঢাকের বাদ্য আর পুরোহিতের মন্ত্র উচ্চারণে মুখর হয়ে উঠেছে রাজা মাঠের কেন্দ্রীয় মণ্ডপ।

জেলার ৭ উপজেলায় এবার ৩৩টি মণ্ডপে পূজা, সদরেই ১১টি। সবচেয়ে বড় আয়োজন ঐতিহাসিক রাজা মাঠে। শ্রীশ্রী সার্বজনীন কেন্দ্রীয় দুর্গোৎসব উদযাপন পরিষদ-১৪৩৩ বাংলার আয়োজনে সপ্তাহব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব ও শারদ মেলা চলছে।

রিকশা, সিএনজি, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস কিংবা পায়ে হেঁটে নানা বয়সের মানুষ মণ্ডপে আসছেন প্রতিমা দর্শন করতে। সাউন্ড সিস্টেমে পূজার গান এবং গানের তালে শিশুদের নাচ মণ্ডপকে মুখর করে রাখে। সন্ধ্যার পর ঢাকের বাদ্য শুরু হলে উৎসবের আমেজ আরও বাড়ে।

-মহানবমী আজ:-
এলো মা দুর্গা, এলো উমা, শিউলি ভোরের গান,
_ষষ্ঠী সপ্তমী অষ্টমী গেলো — ভরে দিয়ে প্রাণ।
_দেখতে দেখতে নবমী এলো, বাজলো বিদায়ের সুর,
_অপেক্ষাটাই সুন্দর ছিলো, আজ মনটা ভাঙচুর।

পুরাণ বলে, এই তিথিতেই রুদ্ররূপে মা,
চণ্ড-মুণ্ড-রক্তবীজ, মহিষাসুরে ঘা।
সন্ধিক্ষণের সেই ক্ষণে, জ্বলে ১০৮ বাতি,
চামুণ্ডা রূপে মা জাগেন, মুছে আঁধার রাতি।

তবু মনে আশা জাগে, ঢাক বাজবে আবার,
নতুন চোখে দেখবো এবার, আসছে বছর আবার!

সম্প্রীতির বান্দরবান:
বান্দরবান ঐতিহাসিক রাজা মাঠ কেন্দ্রীয় দুর্গা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি *বিপ্লব দাশ রাজেশ্বর* বলেন, “রাজার মাঠের এই পূজা শুধু একটি পূজা নয়, এটি আমাদের সম্প্রীতির সবচেয়ে বড় মিলনমেলা। এখানে পাহাড়ি-বাঙালি, মারমা-চাকমা-ত্রিপুরা-বম, হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে মায়ের আরাধনা দেখে। এর চেয়ে বড় বাংলাদেশ আর কোথায় পাবেন?”

তিনি আরও বলেন, “আজ মহানবমী, আজকের পরই মায়ের বিদায়ের ক্ষণগণনা শুরু। দেখতে দেখতে নবমীও শেষ হয়ে গেলো। এখন মনে হচ্ছে, এই ক’টা দিনের আনন্দের চেয়ে মায়ের জন্য যে দীর্ঘ অপেক্ষাটা ছিলো, সেটাই বেশি সুন্দর ছিলো। তবুও আমরা প্রার্থনা করি, মা যেন সবার মঙ্গল করেন।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD