সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচারিত একটি পোস্টের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দ্বাড়িয়াকান্দি নয়াবাড়ী গ্রামের মৃত হিম্মত আলীর ছেলে সাহাজ উদ্দিন (৫০)।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকালে তাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্টের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ২৮ আগস্ট শুক্রবার সকালে Md Nazmul Hasan নামক একটি ফেসবুক আইডি থেকে https://www.facebook.com/share/p/1G5nzfkaZa/ লিংক এর মাধ্যমে “দ্বাড়িয়াকান্দিতে ১৪৪ ধারা অমান্য করে জমিতে হামলা: জসিম উদ্দিন ও নাছিমা বেগমের মাথায় কোপ ও হাত ভঙ্গ, নেপথ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা, মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ” শিরোনাম উল্লেখ করে যে লিখাটি পোস্ট করা হয়েছে তা আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সাংবাদিক না হয়েও উক্ত পোস্টে মো. নাজমুল হাসান নিজেকে বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে একটি সংবাদ উপস্থাপন করে আমাদের বিরুদ্ধে যেসব কথা লিখেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
সংবাদে মো. নাজমুল হাসান উল্লেখ করেছেন- বিরোধপূর্ণ জমিতে আদালত কর্তৃক জারি করা ১৪৪ ধারা অমান্য করেছি, যাহা আদৌও সত্য নয়।
প্রকৃতপক্ষে আমার দখলীয় নিজস্ব জায়গায় গত ২৩ আগস্ট রোববার সকাল থেকে সীমানা প্রাচীর (দেওয়াল) নির্মাণ কাজ শুরু করি। এর পর দিন ২৪ আগস্ট দুপুরের দিকে কুলিয়ারচর থানার এএসআই আব্দুল লতিফ (নি.) উক্ত জায়গার উপর ১৪৪/১৪৫ ধারায় একটি নোটিশ জারি করেন। তাৎক্ষণিক আদালতের নিষেধাজ্ঞা মান্য করে আমারা দেওয়াল নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেই। এখন পর্যন্ত কাজ বন্ধ রয়েছে।
মো. নাজমুল হাসান তার সংবাদে আরো উল্লেখ করেন, স্থানীয় কতিপয় নেতার মদদে এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর বসতবাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছি। হামলার একপর্যায়ে আমরা নাকি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জসিম উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী নাছিমা বেগমের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছি এবং উভয়ের হাত ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছি।
কুলিয়ারচর থানায় আমার বড় ভাই মো. জসিম উদ্দিনের ছেলে তানভীরের দায়ের করা অভিযোগপত্রে এমন কোন অভিযোগ করা হয়নি এবং কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সাংবাদিকদের তোলা ছবি ও ভিডিওতে শুধু আহত নাসিমা আক্তার ছাড়া সংবাদে উল্লেখিত জসিম উদ্দিনের মাথায় কোপ কিংবা হাত ভাঙা, নাছিমা বেগমের হাত ভাঙ্গা আঘাতের কোন চিহ্ন নেই। এমন কি অন্য দুই জনের শরীরেও রক্তাক্ত আঘাতের কোন চিহ্ন নেই।
গত ২৩ আগস্ট রোববার দেশীয় মারাত্বক অস্ত্রাদী নিয়ে আমার বড় ভাই জসিম উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে আমরা কোন হামলা করিনি। বরং ওই সময় আমাদের নিজস্ব দখলীয় সম্পত্তিতে আমরা সীমানা প্রচীর (দেওয়াল) নির্মাণ করা অবস্থায় বিকাল ৪ টার দিকে আমার ভাবী মোছা. নাছিমা বেগম ঝগড়া করার উদ্দেশ্যে আমাদের জায়গা থেকে বেশ কয়েকটি বাঁশ কেটে ক্ষতি করতে থাকে। এসময় আমি বাধা নিষেধ দিলে ভাবী কোড়াল দিয়ে আমাকে কোপ মারতে আসলে আমি কোড়ালটি ধরে ফেলি। কোড়াল নিয়ে আমাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কোড়ালের ঘারার আঘাতে ভাবীর মাথা ফেটে যায়। অন্যদেরকে কেউ কোন মারধর করিনি। এই জায়গা নিয়ে একাধিকবার এলাকায় সালিশ দরবার হয়েছে। শেষ সালিশে সালিশানরা সীমানা বন্টন করে খুটি গেড়ে দিয়ে গেছে। আমরা উক্ত সীমানার খুটি মেনে আমার জায়গায় দেয়াল নির্মাণ কাজ করে আসছিলাম। কিন্তু আমার ভাই জসিম উদ্দিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সালিশ দরবার না মেনে উল্টো আমাদেরকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা মোকাদ্দমা করে আসছে। গত ২৪ আগস্ট সোমবার কুলিয়ারচর থানার এএসআই মো. আব্দুল লতিফ বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে আমাদের জায়গার উপর ১৪৪/১৪৫ ধারায় একটি নোটিশ জারি করার সাথে সাথে আমরা উক্ত জায়গায় দেওয়াল নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেই। এখনও আমাদের কাজ বন্ধ রয়েছে। এখানে ১৪৪/১৪৫ ধারা ভঙ্গ করা হয়নি।
সংবাদে তানভীর আহমেদ ও আউলিয়া বেগমসহ একই পরিবারের ৪ জন মারাত্মক রক্তাক্ত আহত হয়েছেন এমন কথা উল্লেখ করে আরো লিখা হয় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জসিম উদ্দিনের মাথায় কোপ দিয়ে ও পিটিয়ে তাঁর হাত ভেঙে দেওয়া হয়। তাঁর স্ত্রী মোছা. নাছিমা বেগমকেও কুপিয়ে মাথা ফাটানো হয় এবং পিটিয়ে তাঁর হাত ভেঙে দেওয়া হয়। এছাড়া তানভীর আহমেদ ও নাছিমা বেগমের বোন আউলিয়া বেগমকেও পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কুলিয়ারচর থানায় ও সাংবাদিকদের নিকট দেওয়া অভিযোগের সাথে এ লিখার কোন মিল নেই। এ লিখার আগে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদেও এসব কথা উল্লেখ নেই।
সমাজে আমাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন চক্রান্তে লিপ্ত হয়ে আমাদের প্রতিপক্ষ গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার সকালে Md Nazmul Hasan নামক ফেসবুক আইডি থেকে https://www.facebook.com/share/p/1G5nzfkaZa/ লিংক এর মাধ্যমে আমাদের বিরুদ্ধে এ সংবাদটি পোস্ট করে আমাদের মানহানি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচারিত এ পোস্টের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এর সাথে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করায় এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবী করছি।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, গত ২৩ আগস্ট রোববার সকালে সীমানা প্রাচীর (দেওয়াল) নির্মাণ কাজ শুরু করার পর দুপুরে আমার বড় ভাই জসিম উদ্দিনের ছেলে তানভীর আহমদ বাদী হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে ফৌ: কা: বি: আইনের ১৪৪/১৪৫ ধারায় বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত কিশোরগঞ্জে একটি মোকদ্দমা দাখিল করে। যাহার সি আর মোকাদ্দমা নং- ১০৮১/২৬। উক্ত মোকাদমা দাখিলের পর বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে স্মারক নং- ২৮৩৯/২০২৬, তারিখ-২৩/০৮/২০২৬ ইং মূলে দ্বাড়িয়াকান্দি মৌজার খতিয়ান নং- সিএস- ৫৪৩ ও আর.এস- ৩৯৪, দাগ নং- সিএস- ৪০৭, আর.এস-১২৫৫, শ্রেণি- কান্দা, ১০ শতাংশ বিরোধীয় ভূমিতে উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য উভয় পক্ষদ্বয়ের মধ্যে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৪৪/১৪৫ ধারার বিধান মোতাবেক ২৪ আগস্ট সোমবার দুপুরের দিকে কুলিয়ারচর থানার কর্তব্যরত এএসআই মো. আব্দুল লতিফ (নি.) আমাদের উভয় পক্ষের মধ্যে একটি নোটিশ জারী করেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয় বিরোধীয় ভূমিতে কেউ যদি জোর পূর্বক প্রবেশ করে শান্তি ভঙ্গের চেষ্টা করে তাহলে সেই পক্ষ আইনে আমলে আসিতে বাধ্য থাকিবেন। নোটিশ জারির পর থেকে বিরোধীয় ভূমিতে দেয়াল নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয়। এখনো কাজ বন্ধ রয়েছে। আমাদেরকে আইনের চোখে অপরাধী বানাতেই এসব মিথ্যা প্রচার চালানো হয়েছে।
ছবিতে হাসপাতালে ভর্তিকৃত আহত মোছা. নাছিমা বেগমসহ চার জন। ফেসবুক পোস্টে উল্লেখিত আহতদের শরীরে যেসব আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এ অনুযায়ী নাছিমা বেগমের হাত ভাঙ্গার কোন চিহ্ন নেই। অপর দিকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মো. জসিম উদ্দিনের মাথায় কোপ ও হাত ভাঙ্গার কোন চিহ্ন রয়েছে বলে মনে হয়না। এছাড়া তানভীর আহমেদ ও আউলিয়া বেগমের শরীরেও রক্তাক্ত কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। এতেই বুঝা যায় সংবাদটি কতটুকু সত্য।


Leave a Reply