বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় মেয়ের বিয়ের হারানো ৫০ হাজার টাকা ফিরে পেলেন বৃদ্ধ: কুলিয়ারচরে খেলার মাঠে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে মারামারি; এক যুবক রক্তাক্ত, থানায় লিখিত অভিযোগ কুমিল্লায় রেললাইনে হাত ধরে টানাটানি, ট্রেনে কাটা পড়ে দুই নারী নিহত কুমিল্লা দাউদকান্দি পুলিশের জালে ৪ মামলার আসামি, ব্যাগে পিস্তল-গুলি রাজধানীর বুকে জামালপুরের প্রতিচ্ছবি, শওকত হাসান মিঞার মানবিক উদ্যোগ ডুমুরিয়ায় মাছচাষিদের উৎসাহ দিতে ব্যতিক্রমী সাঁতার প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ কুমিল্লা চান্দিনায় ঘরে ঢুকে পিটিয়ে গৃহকর্ত্রীকে হত্যা কুমিল্লায় স্ত্রীকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড দ্বীপচর ‘ঝুনকার চরাঞ্চলে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামল কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নিউইয়র্কের কুইন্স লাইব্রেরিতে কবি শহীদ কাদরী’র উপর আলোচনা অনুষ্ঠিত

অভাবকে জয় করে গ্র্যাজুয়েট রবিন:’সাফল্যের প্রথম ও শেষ কারিগর আমার মা-বাবা’

বিশেষ প্রতিনিধি।।
  • Update Time : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩৪ সময় দেখুন
১৪৪

“আমার গ্রাজুয়েশনের সার্টিফিকেটটা শুধু আমার নয়, এটি আমার মা-বাবার দীর্ঘদিনের কষ্ট ও ত্যাগের স্বীকৃতি।” — কথাগুলো সদ্য গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা এক অদম্য তরুণ আদনান হুসাইন রবিনের। মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার অন্তর্গত দক্ষিণ পাইকসা গ্রামের এই তরুণের জীবনে চরম দারিদ্র্য আর জীবনযুদ্ধের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ সাফল্যের দেখা মিলেছে। তাঁর এই অর্জনের পেছনে লুকিয়ে আছে এক হতদরিদ্র, ভূমিহীন পরিবারের টিকে থাকার এবং বিশাল এক স্বপ্ন দেখার অবিশ্বাস্য গল্প।
​রবিনের বাবা পেশায় একজন ভ্যানচালক, আর মা গৃহিণী। মাথা গোঁজার মতো নিজেদের এক টুকরো জমিও নেই তাঁদের। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর এই সংসারে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটা যেখানে একপ্রকার বিলাসিতা, সেখানে রবিনের বাবা-মা দুজনেই বুকের ভেতর লালন করেছেন ছেলেকে সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন। ভ্যানের প্যাডেলে প্রতিদিন বাবার ঘাম ঝরানো পরিশ্রম আর মায়ের নীরব আত্মত্যাগের চূড়ান্ত ফসল রবিনের আজকের এই অর্জন।
​নিজের এই সাফল্যে আবেগাপ্লুত রবিন তাঁর মা-বাবার প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন:
​”আজকের এই অর্জন আমার একলার নয়; মা-বাবার দোয়া আর অদম্য বিশ্বাসের ফসল এটি। ধন্যবাদ মা-বাবা, আমার স্বপ্নের ডানায় ভর করার সাহস জোগানোর জন্য। আমার সাফল্যের প্রথম ও শেষ কারিগর আমার মা-বাবা।”
​তবে দক্ষিণ পাইকসা গ্রামের এই অনুপ্রেরণাদায়ক গল্পের আরেক অবিচ্ছেদ্য অংশ রবিনের নিজের একাগ্রতা, মেধা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি। পরিবারের শত অভাব ও প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি নিজের লক্ষ্য থেকে এক মুহূর্তের জন্যও বিচ্যুত হননি। বাবার ঘামের মূল্য এবং মায়ের স্বপ্নের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি দিনরাত পরিশ্রম করেছেন। তাই পরিবারের ত্যাগের পাশাপাশি তাঁর নিজের কৃতিত্বও এখানে অনস্বীকার্য।
​ভবিষ্যৎ পথচলার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে রবিন বলেন, “সবাই আমার জন্য আর আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন।”
​মুন্সিগঞ্জের আদনান হুসাইন রবিনের এই সাফল্য আজ চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করেছে— প্রবল ইচ্ছাশক্তি, সততা আর মা-বাবার আশীর্বাদ থাকলে দারিদ্র্য কখনো স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হতে পারে না। তাঁর এই হার না মানা সংগ্রামের গল্প সমাজের হাজারো সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD