পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাজারীপাড়া, ডাঙাপাড়া ও প্রধানপাড়া এলাকায় করতোয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে সৃষ্টি হয়েছে চরম আতঙ্ক। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর ভয়াল গ্রাসে ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ একর আবাদি কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিদিনই নদীর তীব্র স্রোতে নতুন নতুন এলাকা ভেঙে পড়ায় সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে শতাধিক কৃষক পরিবারের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীগর্ভে বিলীন হওয়া জমিগুলোতে ধান, ভুট্টা, পাট, গম, বিভিন্ন শাকসবজি ও মৌসুমি ফসলের আবাদ হতো। ভাঙন অব্যাহত থাকায় শত শত বিঘা উর্বর কৃষিজমি এখন অস্তিত্ব সংকটে। এতে একদিকে কৃষকদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে, অন্যদিকে খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শুধু কৃষিজমিই নয়, ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে মসজিদ, মন্দির, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মুরগির খামার, বসতবাড়ি এবং এলাকায় গড়ে ওঠা ছোট-বড় বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যেকোনো সময় এসব স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, ছাতনাই, কুরুম ও কালীদহ নদীর প্রবাহ করতোয়া নদীর সঙ্গে মিলিত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে নদীর তীব্র স্রোত ও ভাঙন আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী নদীশাসনের অভাবে প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসী পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ ফরহাদ হোসেন আজাদের প্রতি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে তদন্ত এবং স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে নদীভাঙন রোধে টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এবং জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষায়, “এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে শুধু কৃষিজমিই নয়, পুরো জনপদ একসময় করতোয়া নদীর গর্ভে হারিয়ে যাবে।” তাই তাদের একটাই দাবি—অবিলম্বে স্থায়ী নদীশাসন নিশ্চিত করে মানুষের জীবন, জীবিকা ও ভবিষ্যৎ রক্ষা করা হোক।


Leave a Reply