রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাদক বিরোধী লাইভ দেওয়ার পর যুবদল নেতাকে কুপিয়ে জখম, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় স্থানান্তর বাঙ্গরায় দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: বাড়িঘর ও ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেটে ভাঙচুর, আহত-৪ লাখাইয়ের টমটম চালক হত্যা: লুট হওয়া মোবাইল উদ্ধারে রহস্য উদঘাটন শারদীয় দুর্গাপূজায় টুঙ্গিপাড়ার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা ফরিদ গাজীর বান্দরবানে দুই বিতর্কিত কর্মকর্তার পুনর্বহালের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মঞ্জুয়ারা হত্যা মামলায় যুবদল নেতাকে আসামি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন রামুতে পৃথক অভিযানে প্রায় ৬০ হাজার ইয়াবাসহ দুই কারবারি গ্রেপ্তার ইসলামপুরে যুবদল নেতাকে ‘ফাঁসানোর’ প্রতিবাদে চরপুটিমারী: মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) কর্তৃক মালিকবিহীন ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং বাংলাদেশী যৌন উত্তেজক সিরাপ আটক সম্প্রীতির বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬

সুন্দর বনের গোলপাতা আহরন বাওয়ালী পরিবারগুলোতে থাকছে না ঈদের আনন্দ

প্রতিবেদকের নাম
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬
  • ২৪৮ সময় দেখুন
২৮

সুন্দর বনের গোলপাতা আহরন বাওয়ালী পরিবারগুলোতে থাকছে না ঈদের আনন্দ

মোঃ কামরুল ইসলাম টিটু
বাগেরহাট শরনখোলা
সুন্দরবন প্রতিনিধি

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে গোলপাতা আহরণের অনুমতি না মেলায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন বাওয়ালিরা। ঈদের আনন্দ তো দূরের কথা, সংলগ্ন এলাকার এসব পরিবারে এখন চলছে নীরব কান্না। বন বিভাগের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে প্রায় ২০ হাজার মানুষ এবার ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সুন্দরবনে গোলপাতা আহরণের অনুমতি দেয় বন বিভাগ। বনসংলগ্ন শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, রামপাল, মংলা ও ভান্ডারীয়া এলাকার কয়েক হাজার বাওয়ালী বংশপরম্পরায় এই অনুমতি নিয়ে গোলপাতা সংগ্রহ করে আসছেন। এই সময়ে তাঁরা দুই চালান গোলপাতা বিক্রি করে সংসার চালান।

চলতি মৌসুম শুরুর আগে বন বিভাগের নির্দেশে বাওয়ালী ও মহাজনরা নৌকার বোর্ড লাইসেন্স (বিএলসি) সংগ্রহ করেন। বন বিভাগের আশ্বাসে মহাজনরা লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে নৌকা মেরামতও করেন। কিন্তু গত তিন মাস ধরে গোলপাতা আহরণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এতে মহাজন ও বাওয়ালীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

সোনাতলা গ্রামের বাওয়ালী মোফাজ্জল হোসেন ও দক্ষিণ রাজাপুরের আফজাল চাপরাশী জানান, মহাজনদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে খরচ করেছিলেন তাঁরা। বন বিভাগ অনুমতি না দেওয়ায় সুন্দরবনে যেতে পারেননি। বছরের নির্ধারিত আয় থেকে বঞ্চিত হয়ে অনেকেই এখন মহাজনদের কাছে দেনাগ্রস্ত। ঈদের আনন্দ দূরের কথা, সংসার চালানো নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা।

মালিয়া গ্রামের বাওয়ালী দেলোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘বন বিভাগ অনুমতি না দেওয়ায় শতশত বাওয়ালী দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। তাই এসব অসহায় পরিবারে এবার ঈদ করার কোনো সুযোগ নেই।’

দীর্ঘদিনের গোলপাতা ব্যবসায়ী সেলিম ব্যাপারী অভিযোগ করে বলেন, ‘বছরের শুরুতে বন বিভাগের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা নৌকার বিএলসি সংগ্রহ করেছি। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে নৌকা মেরামত করেছি। এরপর অনুমতির জন্য অফিসে গেলে নানা তালবাহানা শুরু হয়। তিন মাসেও পূর্ব সুন্দরবন থেকে গোলপাতা আহরণের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। এতে আমরা মোটা অঙ্কের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি।’
অপর ব্যবসায়ী জাকির হোসেন ও সাইফুল ইসলাম খোকন বলেন, আগেভাগে কোনো ঘোষণা না দিয়ে হঠাৎ গোলপাতার অনুমতি বন্ধ করে দেওয়ায় এ পেশার সঙ্গে জড়িত সবাই বছরের নির্ধারিত কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন। বন বিভাগের আশ্বাসে যাঁরা নৌকা মেরামত করেছেন, তাঁরাও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাঁরা এ ব্যাপারে বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী অবশ্য দাবি করেছেন, বিএলসির সঙ্গে নৌকাগুলোর আকারে ব্যাপক তারতম্য থাকায় গোলপাতার অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। নৌকার অস্বাভাবিক আকারের কারণে কোনো বিএলসি নবায়ন করা হয়নি বলে জানান তিনি।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD