কুমিল্লার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন পূর্বধৈইর পূর্ব ইউনিয়নের কোরবানপুর বাজারে আধিপত্য বিস্তার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেটে ব্যাপক ভাঙচুর চালোনো হয়। সংঘাত চলাকালে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে কোরবানপুর এলাকার উত্তরপাড়া ও সৌদিয়ানপাড়া (দক্ষিণ) বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘাতের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোরবানপুর এলাকার দুই জনপ্রতিনিধি ওমর আলী মেম্বার ও করিম মেম্বারের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয় নিয়ে ‘রনি’ নামের এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এরই জেরে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে কোরবানপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দা জিয়াউর রহমানের ওপর সৌদিয়ানপাড়ার কয়েকজন লোক হামলা চালিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পূর্বরাতের ঘটনার জের ধরে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উত্তরপাড়ার প্রায় দেড় শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সৌদিয়ানপাড়া এলাকায় প্রবেশ করে। হামলাকারীরা একযোগে কয়েকটি বসতবাড়ি, কোরবানপুর বাজারের একাধিক দোকানপাট এবং দুটি ‘ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং’ আউটলেটে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। হঠাৎ এমন তাণ্ডবে পুরো বাজার ও আশপাশ এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে আত্মরক্ষার্থে ছোটাছুটি শুরু করেন।
সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য ওমর আলী ও আমির হোসেনসহ অন্তত চারজন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। এদের মধ্যে আমির হোসেনের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
খবর পেয়ে বাঙ্গরা বাজার থানা-পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মতবিনিময় সভা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিউল আলম জানান, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও পূর্ববিরোধের জের ধরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে।


Leave a Reply