লালপুরে উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে হ্যাকার চক্র: তথ্য ফাঁসের নেপথ্যে কারা, প্রশ্ন অভিভাবক ও স্থানীয়দের
নিজস্ব প্রতিবেদক
নাটোরের লালপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরেই ইমো হ্যাকিং, বিকাশ হ্যাকিং ও নানা ধরনের অনলাইন প্রতারণার ঘটনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি বিতরণ কার্যক্রম শুরু হতেই এই প্রতারক ও হ্যাকার চক্রটি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এবার তাদের মূল লক্ষ্য অসহায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপবৃত্তির টাকা।
ইতিমধ্যেই উপজেলার ‘লালপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ (লালপুর গার্লস স্কুল)-এর বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকের সাথে কথা বলে এই জালিয়াতির ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এর আগেও কয়েকবার কৌশলে তাদের উপবৃত্তির টাকা হ্যাকাররা চুরি করে নিয়ে গেছে। চলমান বিতরণ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করেও নতুন করে সক্রিয় হয়েছে এই চক্রটি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সচেতন মহল থেকে সবাইকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে যে—উপবৃত্তি সংক্রান্ত কোনো বিষয়েই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কিংবা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ‘নগদ’ বা বিকাশ থেকে কোনো অভিভাবককে ফোন দেওয়া হচ্ছে না। হ্যাকাররা মূলত নিজেদের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে, নানা প্রলোভন বা অ্যাকাউন্টের তথ্য হালনাগাদের অজুহাত দেখিয়ে ওটিপি (OTP) ও পিন নম্বর হাতিয়ে নিচ্ছে এবং মুহূর্তের মধ্যে টাকা তুলে নিচ্ছে।
এই জালিয়াতির ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও সন্দেহের দানা বেঁধেছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন—সরকারি পোর্টালে জমা দেওয়া শিক্ষার্থীদের অত্যন্ত গোপনীয় মোবাইল নম্বর এবং যাবতীয় ব্যক্তিগত তথ্য এই হ্যাকার ও প্রতারক চক্রের হাতে কীভাবে পৌঁছাচ্ছে?
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকদের দাবি, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কোনো সদস্য, শিক্ষক অথবা অফিসের কোনো কর্মচারী এই তথ্য ফাঁসের সাথে জড়িত নয়তো? ভেতরের কারো যোগসাজশ বা সহযোগিতা ছাড়া হ্যাকারদের পক্ষে সুনির্দিষ্টভাবে উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকা ও নম্বর সংগ্রহ করা অসম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী অভিভাবকরা এই চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে এবং তথ্য ফাঁসের উৎস খুঁজে বের করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার এবং স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ডেটা সুরক্ষার বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।


Leave a Reply