July 9, 2026, 6:02 pm
শিরোনাম :
নদীপথে পানিবন্দি মানুষের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিল দীঘিনালা উপজেলা প্রশাসন টানা বর্ষণে প্লাবিত বলিবাজার, বন্যাদুর্গত ৩০ পরিবারের পাশে ৩৮ বিজিবি, আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি হলেন ডা. তাহের জয়পুরহাটে সন্তানসহ গৃহবধূ নিখোঁজ, যুবকের সঙ্গে চলে যাওয়ার অভিযোগ স্বামীর মিমের পর্দা উঠাইলে দেখবি ওরে মন রাম,রহিম, কৃষ্ণ করিম,মূলেতে একজন খুলনায় র‍্যাব-৬ এর অভিযানে অস্ত্র ও গুলিসহ দুর্ধর্ষ ডাকাত খবির মোল্লা গ্রেফতার রূপসায় কেডিএর উদ্যোগে সেবা ও মাস্টার প্ল্যান বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দীঘিনালায় বন্যার্তদের সহায়তায় সেনাবাহিনী, কোবাখালীতে ত্রাণ বিতরণ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ২ যুবকের ধর্ষণ রূপসা ও দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, প্রশংসায় ভাসছেন এমপি হেলাল

মিমের পর্দা উঠাইলে দেখবি ওরে মন রাম,রহিম, কৃষ্ণ করিম,মূলেতে একজন

প্রতিবেদকের নাম
  • Update Time : Wednesday, July 8, 2026
  • 24 সময় দেখুন

রমেস শীল:
ধর্মের দুইটি দিক আছে। একটি হাকিকাহ ও অন্যটি শরিয়াহ। হাকিকাহ মানে আল্লাহর ব্যাপারে পরম জ্ঞান। শরিয়াহ মানে আল্লাহর বিধি-বিধানের অনুসরণ। আত্ম পরিচয় উদ্ঘাটনে হাকিকাহ বা পরম জ্ঞান অর্জিত হয়।

যখন একজন সাধক তার নিজের আত্মপরিচয় জেনে যায় তখন সে বুঝে যায়,আল্লাহ একমাত্র কর্ম বিধায়ক। কর্মের পিছনে কোন মানুষের কোন কর্তৃত্ব নেই। যখন কেহ কর্মের পিছনে তার কর্তৃত্বের দাবি ছেড়ে দেয় তখন তার সকল আপতা কারণ এক পরম কারণে মিশে যায়। জাগতিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার জন্য তার আপাত কারন আর না থাকায় সে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া বা আমিত্বের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যায়।

আসলে আমিত্ব বা ইগোর কোন পর্দা নেই। সব দৃষ্টি ভ্রম বা মায়া। এই মকরবাজী বুঝে ফেলার নাম আত্মপরিচয় জানা বা আমিত্বর পর্দার অপসারন।

এই হাকিকাহ বা বিশেষ জ্ঞানের সাধক আল্লার ইচ্ছার কাছে নিজের ইচ্ছাকে ফানা বা বিলীন করে দেয়। আল্লাহর ইচ্ছার সাথে নিজের ইচ্ছা ভাসিয়ে দেয়।

সুতরাং ফানাফিল্লাহ মানে আল্লাহর সত্তার সাথে নিজের সত্তার ফানা বা বিলীন করে সার্বজনীন হওয়া নয়। জাত সিফাতের পার্থক্য ভুলে গিয়ে স্রষ্টার সত্তার সাথে নিজ সত্তাকে অখণ্ড করা নয়।

আমাদের দরকার রাসূল নির্দেশিত মধ্য পন্থার ফানাফিল্লাহ। তকদির সহ ঈমানের মৌলিক বিষয় বিশ্বাস করলে রসূল প্রদর্শিত ফানাফিল্লাহ অর্জিত হয় এবং আল্লাহকে একমাত্র কর্ম বিধায়ক হিসেবে গ্রহণ করে তার ইচ্ছার উপর রাজি খুশি থাকা যায়।

ফানার বাহক কোন দরবার খুলেনা। প্রচারের জন্য কোন চেম্বার দেয়না। অলি আল্লাহ শাহ সূফীর লকব নেয়না। কারামতের কাহিনী বলেনা। মনো শক্তির ভেলকি দেখায় না। আওলাদে রসূল সেজে রসূল বংশের ১৪ তম পুরুষ দাবি করে না। এসব আমিত্ব বা খান্নাসের দাবি যা দুর করার নাম ফানাফিল্লাহ।

সাধু সাধু করে সবাই,কেউ সাধু নয়;
বুঝিয়া শুনিয়া গুনিয়া দেখিলাম, গুটি কয়েক সাধু হয়।

হলুদ গেরুয়ায় সাদা বসনে থলথলে দেহে তসবিহ হাতে লম্বা চুলে দরবার সাজিয়ে রাজার মতো সিংহাসনে বসে গলায় মালা ঝুলিয়ে হেলে দুলে গুরুগম্ভীর গলায় ফানা বাকার কিছু মুখস্ত বিদ্যার চমক দেখিয়ে ভক্তের ঈমান আমান সোনা দানা লুট করে তাদের ফানা ফানা করাই বাকি সব মেকি ও ভন্ড সাধুদের ফানাফিল্লাহ।

বাঁকা ছাড়া ফানা পথভ্রষ্টতা। বাঁকা মানে জাগতিক কাজ কর্ম ও শরীয়তের বিধি বিধানের উপর অটল থাকা। নিজেকে খানকায় বন্দী করে সমাজ ও রাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে তবলা পিটিয়ে হারমোনিয়াম বাজিয়ে কাওয়ালী গেয়ে ফানা বা বাঁকা অর্জন করা যায়না।

জ্ঞানতত্ত্বে পরম জ্ঞান অর্জিত হয় এবং দেহতত্ত্বে সেই জ্ঞান স্থির হয়। জ্ঞান সাধনা ছাড়া শুধুমাত্র দেহতত্ত্বের তাত্ত্বিক কথা ও জাত পাতের গান গেয়েও ফানা বা বাঁকা অর্জন করা যায় না।

এসব সাধকের সমাজ ও রাষ্ট্র নিয়ে মাথা ব্যথা নেই। এরা সমাজ ও রাষ্ট্র সংশোধনের জন্য রসুলের মত শিবে আবু তালিব বন্দী হয় না। হিজরতে বাধ্য হয় না। তায়েফের মাঠে রক্তাক্ত হয় না। যুদ্ধে দন্ত মোবারক হারায় না। হোসেনের মত রক্তে লাল হয় না। হাসানের মত বিষে নীল হয় না। এরা নরম বিছানায় বসে নবীর শানে শুধু কিয়াম করে ও হাসান হেসেনের নামে শুধু মাতম করে আশেকে রসুল ও অাহলে বায়াত সাজে।

যত বড় রসুল বা আশেকে রসুল সে হোক না কেন হাশরের ময়দানে আল্লাহ ছাড়া কারো কোন কর্তৃত্ব থাকবে না। আল্লাহ যাকে সুপারিশের অনুমতি দিবে সে শুধু সুপারিশ করবে। তাই গুরু সুপারিশ করে তরিয়ে দিবে বা উসিলা হয়ে বাঁচিয়ে দিবে একথা সত‌্য নয়।

আসল বা সম্যক গুরু আল্লাহ। তিনি মানুষের অন্তরে কখনো এলহামের মাধ্যমে অথবা কখনো মানুষ গুরুর মাধ্যমে অথবা কখনো পুথি পুস্তকের মাধ্যমে মানুষকে শিক্ষা ও হেদায়েত দান করেন। তাই গুরু নামক মাধ্যম ছাড়া শিক্ষা ও হেদায়েত পাওয়া যায় না এটা সত্য নয়।৷ মানব গুরু সহায়ক হয় তবে অনিবার্য শর্ত নয়।

গুরুর কাছে শিখতে ও জানতে যাও। তাকে ধরতে নয়। মানুষ হিসাবে সে নিজেই তার মুক্তির জন্য ইয়া নফসি করছে। সুপারিশ করে বা উসিলা হয়ে মুরিদান তরিয়ে নেয়ার জাহাজের লাইসেন্স আল্লাহ গুরুকে দেন নাই।

গুরুর কবরে আলো জ্বালিয়ে মৃত গুরুকে কবরে জীবিত বানিয়ে লাল নীল পতাকা উড়িয়ে তাকে হাজির নাজির বলে প্রচার করা মানত ব্যবসার ধান্ধা মাত্র। জীবিত গুরুর চেয়ে মৃত গুরুর ক্ষমতা বেশি এ কথা প্রচার করা দরবার জমিয়ে রাখার কৌশল মাত্র। মানত পুরুনের ক্ষমতার কথা ও কবর উঁচু করে লাল শালুতে বাতি জ্বালানোর কথা গুরু কখনো বলে না।

মাজার বা কবর থেকে ভক্তের মানত পূরণ করাতো দূরের কথা নিজের উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা গুরুর নেই। অথচ ভক্তরা তার মৃত্যুর পর মানতের হাস মুরগি টাকা পয়সা খাওয়ার জন্য দিঘিতে থাকা কুমিরের মতো তাকে মাজারে থাকা কুমির বানায় ও মাজার ব্যবসা শুরু করে।

আত্মতত্ত্ব জানার কারণে মানুষের ক্ষমতার দৌড় সাধক বুঝে যায়। রাম রহিম কৃষ্ণ করিম নির্বিশেষে সকল মানুষ আল্লাহর ইচ্ছা ও শক্তির সুতায় সমানভাবে বাঁধা। সমস্ত রাজা-বাদশা অলি আউলিয়ার চুলের ঝুটি তার হাতের মুঠোয়। তিনি যেদিক ইচ্ছা সেদিক ঘুরিয়ে দেন।

তাই সে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে আউলিয়া বা অভিভাবক হিসেবে মানেনা। সে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে মোর্শেদ বা পথ প্রদর্শক হিসেবে গ্রহণ করেনা। আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য ঈমান ও সৎ আমল ছাড়া অন্য কাউকে সে উসিলা বা উপায় মনে করেনা।

ইমান ও সৎ আমলের মূল দাবি, ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে কোরানের আইন প্রতিষ্ঠা করা। অথচ তা বাদ দিয়ে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মোল্লাদের বিরোধ ও দলাদলি এবং ওয়াজের নামে হুজুদের গাল গল্প ও হাসাহাসি আজ ইসলামকে ৭৩ ফেরকায় ভাগ করেছে।

জাতীয়, সামরিক, অর্থনৈতিক, বিচারিক কার্যক্রমে ইসলামী হুকুমের ব্যাপারে বেখবর হুজুর ও মোল্লারা আমাদের হাতে ধরিয়ে দিয়েছে গান গজল ও জিকিরের সিলেবাস। ফেলে দিয়েছে তলোয়ার আর হাতে নিয়েছে তসবিহ দানা। চিনিয়ে দিয়েছে দরগাতলা ও সিন্নি। বাঁধিয়ে দিয়েছে শিয়া সুন্নি ও ওহাবী দ্বন্দ্ব।

ঘুরিয়ে দিয়েছে বায়াত ও খেলাফতের সংজ্ঞা। দ্বীন কায়েমের জন্য নেতার হাতে বায়াতের পরিবর্তে তারা চার তরিকার গ্রহনের জন্য পীরের হাতে বায়াত নেন। আল্লাহর খলিফা হয়ে সমাজ জীবনে আল্লাহর খেলাফত কায়েমের পরিবর্তে তারা পীরের খলিফা হয়ে নতুন নতুন দরবারে পীরের খেলাফত কায়েম করেন।

আড়াল করেন কলেমার বুঝ ও অর্থ। কলেমার ইলাহা শব্দের অর্থ বিধানদাতা না করে বরং মাবুদ ও উপাস্য করেন যাতে কলেমার সঠিক অর্থ আড়াল হয়ে কলেমা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর শাসন চাওয়ার পরিবর্তে রাস্তা ঘাটে ভিক্ষা চাওয়ার বুলিতে পরিণত হয়।

সে কারণে মুসলিম জাতি আজ বিভক্ত। কলেমার পতাকার তলে এক নয়। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে কলেমার বুঝ না থাকায় ইসলাম শত্রুরা সেই সুযোগে আল্লাহর বিধান এর পরিবর্তে মানব রচিত বিধান দিয়ে সমগ্র দুনিয়া শাসন ও শোষণ করছে। গোলাম বানিয়ে ছড়ি ঘুরাচ্ছে ২০০ কোটি মুসলমানের উপর।

অথচ শরিয়াহ মূল দাবি কলেমা। আমার জীবন ও আমার জমিন চলবে আল্লাহর বিধানে, আল্লাহর হুকুমে ও আল্লাহর শাসনে।

এটা মানবতারও দাবি। মানুষের শাসন শোষণ, জুলুম নির্যাতন সহ সকল প্রকার অন্যায় অপকর্ম বন্ধের একমাত্র পথ আল্লাহর শাসন বা কলেমা কায়েম করা। ইহার বাইরে শান্তি ও মানবতার জন্য দ্বিতীয় কোন পথ বা সিষ্টেম নেই।

মানুষের তৈরি করা তাগুদী সিষ্টেমের মোকাবেলায় কালেমা পুনরুদ্ধারের জন্য জান মাল দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় চেষ্টা চালাও। কওমের দান সদকায় চলা কওমি প্রতিষ্ঠানে বেকার হুজুর তৈরি না করে বরং সামরিক দুর্গে গড়ে উঠা সাহাবিদের মতো আত্মনির্ভরশীল মরদে মুমিন মুজাহিদ বানাও।

যে কলেমা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে, সে আমার ভাই। কলেমা বা আল্লাহর শাসন প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আমরা এক। যেমনি তাগুদি দলের সদস্যরা মানুষের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে এক। দাড়ি, টুপি, লেবাস নিয়ে ঘাটাঘাটি না করে বরং কলেমার প্রশ্নে আমরা এক তাওহীদের উপর ঐক্যবদ্ধ থাকি।

এক এমাম বা নেতার নেতৃত্বের হাতে বায়াত বা শপথ নিয়ে জামাত বা দলবব্ধ হয়ে রসুলের তরিকায় বা দেখানো পথে আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি হিসাবে জমিনের বুকে খেলাফত তথা আল্লাহর শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করি।

যেমন সাহাবীরা জামাত বা দলবদ্ধ হয়ে রসূলকে ইমাম বা নেতা মেনে রাসুলের হাতে বায়াত বা শপথ নিয়ে দ্বীন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিল।

কলেমা বাস্তবায়নে মানুষের ঈমানী শক্তি দেখার জন্য আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর বিধান দিয়ে মানুষ আল্লাহর জমিন চালাতে পারে কিনা সেই ঈমানী হেডম আল্লাহ শুধুমাত্র দেখতে চেয়েছেন। আত্মতত্ত্বের আধ্যাত্মিক নেশায় হিমালয় বা কৈলাসে বসা ধ্যান মগ্ন সাধক দেখতে চান নাই।।

আল্লাহ মানুষ সৃষ্টি করেছেন শুধুমাত্র তার এবাদতের জন্য তথা আল্লাহর আদেশ নিষেধ মেনে চরিত্রে শ্রেষ্ঠ হবার জন্য। আমি কে তার মারেফত জানার জন্য সৃষ্টি করেন নাই।

নামাজ রোজা হজ জাকাত সহ মানুষের সকল ইবাদত তাকে কলেমা প্রতিষ্ঠার জন্য চারিত্রিক ভাবে প্রস্তুত করে যেমনি প্যারেড ও প্রশিক্ষণ সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করে।

এক কলেমার জন্য যুগে যুগে জগতের বুকে নবী ও রাসূল এসেছে। তারা কলেমা ছাড়া অন্য কোন বানী বা দাবি নিয়ে আসেন নাই।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD