কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি আর উজানের ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে ভাঙন আতঙ্কও তৈরি হয়েছে।
লালমনিরহাট পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে খুলে দেওয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট। এ অবস্থায় ফের বন্যার আতঙ্কে দিন কাটছে তিস্তাপারের মানুষের। গতকাল সকাল ৯টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্ট তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৪ সেন্টিমিটার, (বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার)। এ সময় পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আদিতমারীর গোবর্ধন গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রশিদ ও কালীগঞ্জের শৈলমারী চরের বাসিন্দা আবদুুল গফ্ফর বলেন, সকাল থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় পানি ঢুকেছে। পানির চাপ দেখে মনে হচ্ছে বড় ধরনের বন্যা হতে পারে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া বাঁধগুলো ভেঙে গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে। বন্যার সময় নদীপারের মানুষ হিসেবে আমরা নির্ঘুম রাত কাটাই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, উজানের পানির প্রবাহ অব্যাহত থাকায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বেড়েছে। এতে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নদীর তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, পানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজে ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। এতে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় নদীর পানির তোড়ে স্বেচ্ছাশ্রমের বাঁধে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় গত দুই দিনে পাঁচটি বসতভিটা, ফসলি জমি, পুকুর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকাতে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ও কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।


Leave a Reply