শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইসলামপুরে যুবদল নেতাকে ‘ফাঁসানোর’ প্রতিবাদে চরপুটিমারী: মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) কর্তৃক মালিকবিহীন ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং বাংলাদেশী যৌন উত্তেজক সিরাপ আটক সম্প্রীতির বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ কৃষকদের সমস্যা সমাধানে পবিপ্রবিতে “ওয়ানস্টপ সার্ভিস” চালু করা হবে–পবিপ্রবি ভিসি প্রফেসর হেমায়েত জাহান রাজাপুরে নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে ব্র্যাকের পেশাদার ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ শুরু বায়না ও টাকা নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি না করে পালানোর অভিযোগ বাগেরহাট কারাগারে খাবার গলায় আটকে হাজতির মৃত্যু আমার নির্বাচনী এলাকায় কোনো উন্নয়ন কাজ অবশিষ্ট থাকবে না: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, এমপি পাহাড়ের শিক্ষায় ই-লার্নিং, আর কোনো বৈষম্য থাকবে না: প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার হেলাল কুড়িগ্রাম সদরে নিজ শোয়ার ঘরে কলেজ ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

নারীদের তৈরি আন্তর্জাতিক মানের সিনথেটিক জুতা এখন বিশ্ববাজারে

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর।।
  • Update Time : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
  • ৮৩ সময় দেখুন
৯৮

ভোরের আলো ফুটতেই শত শত নারী ছুটে যান কর্মস্থলে। তাদের দক্ষ হাতে তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের সিনথেটিক জুতা যা রপ্তানি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, পোল্যান্ড, তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। একসময় মঙ্গার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ঘনিরামপুর আজ রপ্তানিমুখী শিল্প, কর্মসংস্থান ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের এক অনন্য উদাহরণ।

একসময় দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও মঙ্গার জন্য পরিচিত ছিল রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ঘনিরামপুর গ্রাম। বছরের একটি বড় সময় কাজের অভাবে অনেক পরিবার মানবেতর জীবন কাটাত। জীবিকার সন্ধানে পুরুষদের ছুটতে হতো দেশের বিভিন্ন জেলায়, আর গ্রামের নারীরা সীমাবদ্ধ ছিলেন গৃহস্থালির কাজেই। সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

তারাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে মহাসড়কের পাশে সাড়ে ৯ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে রপ্তানিমুখী জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস। প্রায় সাড়ে ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগে প্রবাসফেরত দুই ভাই প্রয়াত সেলিম ও হাসানুজ্জামান হাসান ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এখানে প্রায় তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশই নারী।

কারখানার শ্রমিক কল্যাণ কর্মকর্তা জেসমিন আরা জানান, কারখানা চালুর পর শুধু কর্মসংস্থানই বাড়েনি, বদলে গেছে এলাকার সামাজিক বাস্তবতাও। স্থানীয় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের হাজারো নারী এখন নিজের আয় দিয়ে পরিবারে অবদান রাখছেন। তাদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, মাতৃত্বকালীন ছুটি, চিকিৎসাসেবা এবং দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

কাটিং ইউনিটের শ্রমিক জয়ন্ত রানী জানান, ‘শুরুর দিকে ভয় ছিল। কখনো ভাবিনি এ কাজ শিখতে পারব। এখন নিজের উপার্জনে সংসার চালাই, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ দিই। ভবিষ্যতের জন্যও কিছু টাকা জমাতে পারছি।

লাভলী বেগম জানান, ‘একসময় ধারদেনা ছাড়া সংসার চলত না। এখন নিয়মিত বেতন পাই। ঋণ শোধ করেছি। প্রতি মাসেই কিছু টাকা জমাতে পারি। সবচেয়ে বড় কথা, নিজের পরিচয়ে মাথা উঁচু করে চলতে পারছি।’

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে অন্তত ৫১০ জন আগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করতেন। নিজ এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় তারা ফিরে এসেছেন এবং কাজ করছেন এ কারখানায়। নতুন কর্মীদেরও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে।

মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ আল ফারুক সরকার জানান, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার জোড়া জুতা উৎপাদন হচ্ছে। সম্প্রসারণকাজ শেষ হলে প্রায় ৩৪ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে, যার ৮০ শতাংশই নারী।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসানুজ্জামান হাসান জানান, ‘আমার প্রয়াত ভাইয়ের স্বপ্ন ছিল গ্রামের মানুষকে গ্রামের মধ্যেই কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া। বিশেষ করে নারীরা যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন, সেটিই ছিল আমাদের লক্ষ্য। ভবিষ্যতে দৈনিক ৫০ হাজার জোড়া জুতা উৎপাদনের পাশাপাশি দেশের বাজারেও ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে ।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD