July 11, 2026, 6:01 pm
শিরোনাম :
কুলিয়ারচরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কমিউনিটি পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত কুমিল্লায় ১০-বিজিবির অভিযানে ৯৬ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবাদে ইসলামপুরে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন বগুড়া শিবগঞ্জে ১৫৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রিকালে মিজানুর রহমান মিজু গ্রেফতার রংপুরে আলুতে লোকসান বাদামে আশার আলো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি “রেজাউদ্দিন স্টালিন”এর হাত থেকে গুণীশিল্পী সম্মাননা পেলেন বাউল ছালমা ভারী বর্ষণে থানচির একাধিক স্থানে ভূমিধস, সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘ ছয় মাসের চিকিৎসা শেষে সাম্রাজ্যে ফিরছে রানী,সুন্দরবনের উদ্ধার হওয়া সেই বাঘিনী কোমরসমান পানিতে থমকে শিক্ষা: টুঙ্গিপাড়ায় ৩৬০ এতিম শিশুর বই-খাতা নষ্ট বগুড়া শেরপুর থেকে ট্রাক ভর্তি গরু ডাকাতি

কোমরসমান পানিতে থমকে শিক্ষা: টুঙ্গিপাড়ায় ৩৬০ এতিম শিশুর বই-খাতা নষ্ট

প্রতিবেদকের নাম
  • Update Time : Saturday, July 11, 2026
  • 21 সময় দেখুন

টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি:

টানা বর্ষণে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের বর্নি জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানা এখন যেন জলাবদ্ধতার এক করুণ চিত্র। শ্রেণিকক্ষে কোমরসমান পানি, ভিজে নষ্ট হয়েছে বই-খাতা, কোরআন শরিফ, বিছানাপত্র ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী। গত তিন দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আছে পুরো প্রতিষ্ঠান। ফলে বন্ধ রয়েছে প্রায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান। এর মধ্যে প্রায় ২০০ জনই নূরানী বিভাগের কোমলমতি শিশু, যাদের অনেকেই এতিম ও অসচ্ছল পরিবারের সন্তান।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাদ্রাসার প্রবেশপথ থেকে শুরু করে পুরো মাঠ পানিতে তলিয়ে আছে। শ্রেণিকক্ষের ভেতরে জমে থাকা পানির কারণে বেঞ্চে বসে পাঠদান তো দূরের কথা, কক্ষে প্রবেশ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, পোশাক, বিছানাপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে। অনেক আবাসিক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দিন কাটাচ্ছে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, এখানে দিনাজপুর, বরিশাল, বাগেরহাট, নোয়াখালী, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এতিম ও দরিদ্র পরিবারের শিশুরা এসে আবাসিক ও অনাবাসিক হিসেবে পড়াশোনা করে। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগে পড়তে হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো প্রতিষ্ঠান জলাবদ্ধ হয়ে যায়, ব্যাহত হয় শিক্ষা কার্যক্রম।

মাদ্রাসার সহকারী মোহতামিম মাওলানা ইমদাদুল হক বলেন,
“প্রতি বছর বর্ষা এলেই আমরা একই সংকটে পড়ি। একটু বৃষ্টি হলেই পুরো মাদ্রাসা পানির নিচে চলে যায়। ড্রেন না থাকায় পানি বের হওয়ার কোনো পথ নেই। এখন শিশুদের পড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। আমরা সরকার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের আবেদন জানাচ্ছি।”

নূরানী বিভাগের শিক্ষক মুফতি সাইফুল বলেন, নূরানী বিভাগের শ্রেণিকক্ষ সবচেয়ে নিচু স্থানে হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে পানি ঢুকে পড়ে। এতে শুধু পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে না, দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।

আরেক শিক্ষক মাওলানা মেহরাফ হোসেন নোমানী বলেন, “এখানে শত শত এতিম ও অসচ্ছল শিশু লেখাপড়া করে। তাদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে দ্রুত একটি স্থায়ী ড্রেন নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মানবিক সংকটও তৈরি হয়।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, শত শত এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুর স্বাভাবিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তারা জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে এই শিশুদের শিক্ষাজীবন আর বারবার প্রাকৃতিক দুর্ভোগের কাছে থেমে না যায়।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD