রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মাদক বিরোধী লাইভ দেওয়ার পর যুবদল নেতাকে কুপিয়ে জখম, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় স্থানান্তর বাঙ্গরায় দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: বাড়িঘর ও ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেটে ভাঙচুর, আহত-৪ লাখাইয়ের টমটম চালক হত্যা: লুট হওয়া মোবাইল উদ্ধারে রহস্য উদঘাটন শারদীয় দুর্গাপূজায় টুঙ্গিপাড়ার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা ফরিদ গাজীর বান্দরবানে দুই বিতর্কিত কর্মকর্তার পুনর্বহালের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মঞ্জুয়ারা হত্যা মামলায় যুবদল নেতাকে আসামি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন রামুতে পৃথক অভিযানে প্রায় ৬০ হাজার ইয়াবাসহ দুই কারবারি গ্রেপ্তার ইসলামপুরে যুবদল নেতাকে ‘ফাঁসানোর’ প্রতিবাদে চরপুটিমারী: মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) কর্তৃক মালিকবিহীন ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং বাংলাদেশী যৌন উত্তেজক সিরাপ আটক সম্প্রীতির বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬

কোমরসমান পানিতে থমকে শিক্ষা: টুঙ্গিপাড়ায় ৩৬০ এতিম শিশুর বই-খাতা নষ্ট

প্রতিবেদকের নাম
  • Update Time : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
  • ৬০ সময় দেখুন
৩৮

টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি:

টানা বর্ষণে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের বর্নি জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানা এখন যেন জলাবদ্ধতার এক করুণ চিত্র। শ্রেণিকক্ষে কোমরসমান পানি, ভিজে নষ্ট হয়েছে বই-খাতা, কোরআন শরিফ, বিছানাপত্র ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী। গত তিন দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আছে পুরো প্রতিষ্ঠান। ফলে বন্ধ রয়েছে প্রায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান। এর মধ্যে প্রায় ২০০ জনই নূরানী বিভাগের কোমলমতি শিশু, যাদের অনেকেই এতিম ও অসচ্ছল পরিবারের সন্তান।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাদ্রাসার প্রবেশপথ থেকে শুরু করে পুরো মাঠ পানিতে তলিয়ে আছে। শ্রেণিকক্ষের ভেতরে জমে থাকা পানির কারণে বেঞ্চে বসে পাঠদান তো দূরের কথা, কক্ষে প্রবেশ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, পোশাক, বিছানাপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে। অনেক আবাসিক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দিন কাটাচ্ছে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, এখানে দিনাজপুর, বরিশাল, বাগেরহাট, নোয়াখালী, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এতিম ও দরিদ্র পরিবারের শিশুরা এসে আবাসিক ও অনাবাসিক হিসেবে পড়াশোনা করে। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগে পড়তে হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো প্রতিষ্ঠান জলাবদ্ধ হয়ে যায়, ব্যাহত হয় শিক্ষা কার্যক্রম।

মাদ্রাসার সহকারী মোহতামিম মাওলানা ইমদাদুল হক বলেন,
“প্রতি বছর বর্ষা এলেই আমরা একই সংকটে পড়ি। একটু বৃষ্টি হলেই পুরো মাদ্রাসা পানির নিচে চলে যায়। ড্রেন না থাকায় পানি বের হওয়ার কোনো পথ নেই। এখন শিশুদের পড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। আমরা সরকার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের আবেদন জানাচ্ছি।”

নূরানী বিভাগের শিক্ষক মুফতি সাইফুল বলেন, নূরানী বিভাগের শ্রেণিকক্ষ সবচেয়ে নিচু স্থানে হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে পানি ঢুকে পড়ে। এতে শুধু পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে না, দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।

আরেক শিক্ষক মাওলানা মেহরাফ হোসেন নোমানী বলেন, “এখানে শত শত এতিম ও অসচ্ছল শিশু লেখাপড়া করে। তাদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে দ্রুত একটি স্থায়ী ড্রেন নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মানবিক সংকটও তৈরি হয়।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, শত শত এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুর স্বাভাবিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তারা জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে এই শিশুদের শিক্ষাজীবন আর বারবার প্রাকৃতিক দুর্ভোগের কাছে থেমে না যায়।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD