উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওদের বিপরীত চাল
মো গিয়াস উদ্দিন
উখিয়া,কক্সবাজার ।
স্থানীয় মিডিয়া ও ফেসবুকে এনজিদের রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই নির্মাণ, ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও প্রতিষ্ঠানে বাহিরের লোক ও রোহিঙ্গা দিয়ে এনজিও প্রতিষ্ঠান পরিচালনা।
ফেসবুকে প্রতিনিয়ত এবং মিডিয়ার লেখালেখি হচ্ছে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এনজিও এবং আইএনজিওগুলোর অনিয়ম এখন চরমে। স্থানীয়দের চাকুরিতে বঞ্চিত করে রোহিঙ্গাদের নিয়োগ, টেকসই ঘর নির্মাণ এবং স্থানীয় ভেন্ডরদের বাদ দিয়ে wfp দেশীয় এনজিও সুশীলন এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা ফ্রেস ফুড ডেলিভারি দেওয়ার খবর চাওয়া হইছে। এই সমস্ত সিন্ডিকেট বাণিজ্যের বিরুদ্ধে যখন স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো সোচ্চার, ঠিক তখনই নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষায় নতুন কৌশলে নেমেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।
অভিযোগ উঠেছে, জনমতকে বিভ্রান্ত করতে ইউএনএইচসিআর (UNHCR) সহ প্রভাবশালী এনজিওগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও ভিডিও ক্যাম্পেইন শুরু করেছে।
ক্যাম্পের আশেপাশের স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সাধারণ মানুষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এনজিওগুলো স্থানীয়দের চাকুরিতে অগ্রাধিকার না দিয়ে গোপনে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিচ্ছে। এমনকি কারিগরি কাজে স্থানীয় দক্ষ ভেন্ডরদের সুযোগ না দিয়ে এনজিও কর্মকর্তারা নিজেদের পছন্দের বলয় তৈরি করে টেকসই বাসা নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এসব অনিয়ম নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ শুরু হলে সংস্থাগুলো তড়িঘড়ি করে ফেসবুকে টেকসই নির্মাণগুলো নিয়ে সুসজ্জিত ভিডিও প্রকাশ করে নিজেদের ‘স্বচ্ছতা’ প্রমাণের চেষ্টা চালাচ্ছে, যাকে স্থানীয়রা এনজিওদের ‘বিপরীত চাল’ হিসেবে দেখছেন।
গত এক সপ্তাহে সরকারের দুইজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু এই সফরে স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি বা সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের সাথে রাখা হয়নি। এতে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, যারা এই মাটির সন্তান এবং রোহিঙ্গাদের কারণে যারা প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাদের সাথে কথা না বলে শুধু এনজিওদের সাজানো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মন্ত্রীরা প্রকৃত সমস্যা কীভাবে বুঝবেন?
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এনজিওরা মন্ত্রীদের সামনে শুধু ইতিবাচক দিকগুলোই তুলে ধরছে, যার আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে স্থানীয়দের বঞ্চনা।
সচেতন মহলের মতে, এনজিওগুলো রোহিঙ্গাদের যেভাবে বিলাসী ও টেকসই সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে, তাতে তারা কখনোই মিয়ানমারে ফিরতে চাইবে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক সমাজকর্মী বলেন, “এনজিওরা রোহিঙ্গাদের যা শিখিয়ে দিচ্ছে, সরকার যদি তাই বিশ্বাস করে তবে প্রত্যাবাসন কোনোদিন সম্ভব নয়।
রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে যত বেশি সুযোগ-সুবিধা পাবে, তাদের ফিরে যাওয়ার আগ্রহ তত কমবে।”কক্সবাজারের সাধারণ মানুষ এখন দাবি তুলছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি তদারকিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা এবং এনজিওদের চাকুরিতে নিয়োগ ও কেনাকাটায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যথায় স্থানীয়দের এই চাপা ক্ষোভ বড় কোনো আন্দোলনের রূপ নিতে পারে।


Leave a Reply