টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি:
বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহের চেয়ে নিজের দেশের মাটিতে শ্রম দিয়েই যে সফল হওয়া সম্ভব, তার উজ্জ্বল উদাহরণ গড়ে তুলেছেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার যুবক মোঃ নাজিম মুন্সী। দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে তিনি গড়ে তুলেছেন “ফাহাদ এগ্রো ফার্ম” নামে একটি গরুর খামার। অল্প সময়েই তার খামারটি এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি দক্ষিণ পাড়া গ্রামের বাসিন্দা নাজিম মুন্সী ২০১৭ সালে জীবিকার সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমান। প্রবাসে থাকাকালীন সময়েই ইউটিউবে বিভিন্ন সফল খামারির গল্প ও গরুর খামারের ভিডিও দেখে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। তখন থেকেই মনে স্বপ্ন বুনতে থাকেন— বিদেশে হাড়ভাঙা পরিশ্রমের বদলে দেশে ফিরে নিজেই কিছু করবেন।
সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে ২০২৩ সালে মাত্র পাঁচটি গরু দিয়ে যাত্রা শুরু করেন তিনি। এক বছরের ব্যবধানে ২০২৪ সালে তার খামারে গরুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১২টিতে। বর্তমানে “ফাহাদ এগ্রো ফার্মে” রয়েছে ১৫টি বিশালাকৃতির গরু, যেগুলো আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির হাটে তোলার প্রস্তুতি চলছে।
সরেজমিনে খামারে গিয়ে দেখা যায়, নাজিমের সংগ্রহে থাকা গরুগুলো উচ্চতা ও ওজনে বেশ আকর্ষণীয়। অধিকাংশ গরুর উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট এবং দৈর্ঘ্য ৭ ফুট পর্যন্ত। কোনো গরুর ওজন ১৪ থেকে ১৫ মণ, আবার কোনোটি ১০ থেকে ১২ মণের। খামারে উন্নত জাতের শাহীওয়াল, গির ও ব্রাহামা জাতের গরু রয়েছে।
নাজিম মুন্সী জানান, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে কাঁচা ঘাস, খড় ও ভুষি খাইয়ে কোনো ধরনের ক্ষতিকর হরমোন ছাড়াই গরুগুলো লালন-পালন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “বিদেশে মাসে এক লাখ টাকা আয় করার চেয়ে দেশে ৮০ হাজার টাকা আয় করেও অনেক শান্তিতে থাকা যায়। বিদেশে যে পরিশ্রম করতে হয়, তার দুই-তৃতীয়াংশ শ্রম যদি নিজের দেশে দেওয়া যায়, তাহলে আরও ভালো আয় সম্ভব।”
তবে সফলতার মাঝেও রয়েছে তার কিছু আক্ষেপ। নাজিমের অভিযোগ, এত বড় খামার গড়ে তুললেও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা বা খোঁজখবর পাননি তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আজ পর্যন্ত প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে কোনো কর্মকর্তা বা মাঠকর্মী আমার খামারে আসেননি। কোনো পরামর্শও পাইনি। সরকারি কারিগরি সহায়তা ও তদারকি পেলে খামারটি আরও বড় করতে পারতাম।”
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরুগুলো বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন নাজিম মুন্সী। তার আশা, উপযুক্ত দাম পেলে এবার প্রায় ১০ লাখ টাকা মুনাফা অর্জন করতে পারবেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রকাশ বিশ্বাসের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ সময় তিনি প্রতিবেদককে বলেন, “আপনার যা ইচ্ছা, তা-ই লেখেন।”


Leave a Reply