জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় একটি এতিমখানার পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, এ ঘটনার জেরে স্থানীয় যুবদল নেতাদের বিরুদ্ধে ওই কর্মচারীকে হেনস্তা করার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠলেও তা নাকচ করে দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) উপজেলা প্রশাসনিক ভবনে ঘটা একটি হট্টগোলকে কেন্দ্র করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
জানা যায়,উপজেলার বেনুয়ারচর আব্দুল মালেক মণ্ডল এতিমখানার মেয়াদোত্তীর্ণ পরিচালনা কমিটির নতুন অনুমোদন নিয়ে মূলত দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। চরপুটিমারী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজু অভিযোগ করেন, সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মচারী আব্দুল লতিফ ২০ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সুরুজ মাস্টারকে সভাপতি করে একটি কমিটি অনুমোদনের পাঁয়তারা করেন। একই এতিমখানার জন্য দুটি কমিটির তালিকা জেলা কার্যালয়ে পাঠিয়ে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এই বিভ্রান্তি ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে আব্দুল লতিফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাদের উপজেলা প্রশাসনিক ভবনে ডাকেন। সেখানে কথা বলার সময় কিছুটা হট্টগোল হলেও মারধর বা হেনস্তার কোনো ঘটনা ঘটেনি দাবি করে রাজু জানান, সরকারি কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মলিনও হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, কোনোভাবেই তিনি মারধরের সাথে যুক্ত নন; বরং দুই পক্ষের চলমান বিবাদ মেটানোর চেষ্টা করছিলেন। তার দাবি, স্থানীয় সংসদ সদস্য শুরুতে না জেনে আগের কমিটিতে সুপারিশ করেছিলেন। পরে সেখানে আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্পৃক্ততার কথা জানতে পেরে তা বাতিল করে নতুন কমিটির জন্য সুপারিশ করেন। কিন্তু সমাজসেবা কার্যালয় বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা না করে জেলা কার্যালয়ে পাঠিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করেছে এবং উল্টো তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ গ্রহণের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন উচ্চমান সহকারী আব্দুল লতিফ। তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে জানান,এতিমখানার নতুন কমিটির জন্য দুটি পক্ষই আলাদাভাবে আবেদন জমা দেয় এবং দুটি ফাইলেই সংসদ সদস্যের সুপারিশ ছিল। এই জটিলতার কারণেই বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি দায়িত্ব পালনকালে তাকে অহেতুক হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে বলেও তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন।
সার্বিক বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মো.জুবায়ের জানান,প্রশাসনিক ভবনের এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে লিখিত অভিযোগ হাতে পেলে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


Leave a Reply