সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রামগড়ে পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে এসআরবি ৭ কোম্পানি কমান্ডার মিজানুর রহমান লাখাইয়ে ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভাণ্ডার জরিপ কর্মসূচি ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ​গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক সাড়া, সুষ্ঠু ও আনন্দমুখর পরিবেশে চলছে বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহের কাজ উন্নত চোখের চিকিৎসার জন্য রোগীদের সব খরচ বহন করবে বান্দরবান জোন: লে. কর্নেল সায়েম আহমেদ, আমতলীতে চাওড়া নদীর কচুরিপানা অপসারণ বন্ধ কেন, জানতে চেয়ে জনতার সমাবেশ রামগড়ে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা ব্রাহ্মণপাড়ার ১৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী হাসান ডাকাত চান্দিনা থেকে গ্রেপ্তার ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের একদিনে চার অভিযান, ভারতীয় পণ্য ও মাদকসহ গ্রেপ্তার-৩ উন্নয়ন, সুশাসন ও গণতন্ত্র নিয়ে ইসলামপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপি বাবুর মতবিনিময় শরণখোলায় ভাড়া বাসা থেকে জুই নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার,পরকীয়া প্রেমিক পলাতক লেদা ইবনে আব্বাস মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ক্বারী শাকের আহমদের সুস্থতা কামনায় দোয়া প্রার্থনা

আমতলীতে চাওড়া নদীর কচুরিপানা অপসারণ বন্ধ কেন, জানতে চেয়ে জনতার সমাবেশ

মাইনুল ইসলাম রাজু আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি :
  • Update Time : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৩ সময় দেখুন
৩৮

বরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়া নদী ও এর শাখা নদীর প্রায় ৩০ কিলোমিটার অংশ কচুরিপানায় আচ্ছাদিত। দীর্ঘদিন ধরে কচুরিপানা জমে থাকায় নদীর পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এ অবস্থায় নদী পরিষ্কারের কাজ শুরু হলেও প্রায় এক মাস ধরে তা বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ কাজ বন্ধ হওয়ার কারণ জানতে চেয়ে এবং দ্রুত কচুরিপানা অপসারণের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে চাওড়া নদীর কচুরিপানা অপসারণের কাজ বন্ধ থাকার প্রতিবাদে চাওড়া, হলদিয়া ও আমতলী সদর ইউনিয়নের অন্তত এক হাজার মানুষ সমাবেশে অংশ নেন। এতে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে চাওড়া নদী ও এর শাখা নদীর বিভিন্ন অংশ কচুরিপানায় ভরে আছে। এতে হলদিয়া, চাওড়া, কুকুয়া ও আমতলী সদর ইউনিয়নসহ আমতলী পৌরসভার বিপুলসংখ্যক মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কচুরিপানা পচে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনও ব্যাহত হচ্ছে।

জানা যায়, চাওড়া নদীর কচুরিপানা অপসারণে ২০২৩ সালে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড ‘সুবন্দী প্রকল্প’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয়। প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫ কিলোমিটার নদী পরিষ্কারের কাজ পান পটুয়াখালীর ঠিকাদার বশির উদ্দিন। চলতি বছরের ৩১ আগস্ট যন্ত্রের সাহায্যে কচুরিপানা অপসারণের কাজ শুরু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মী এলাকা থেকে বলাইবুনিয়া গোড়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার অংশের কচুরিপানা অপসারণের পর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রায় এক মাস ধরে নদী পরিষ্কারের কাজ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী এক্সকাভেটর বা ভেকু মেশিন ও শ্রমিক দিয়ে কচুরিপানার গোড়াসহ অপসারণ করতে হবে, যাতে দ্রুত আবার কচুরিপানা জন্মাতে না পারে। তবে যন্ত্রের সাহায্যে কচুরিপানা কাটার পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি ওঠায় বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমান ঠিকাদারকে নোটিশ দেন বলে জানা গেছে। এরপর থেকেই কাজ বন্ধ রয়েছে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন আমতলী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মকবুল হোসেন খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমতলী উপজেলা সভাপতি মাওলানা মুক্তি ওমর ফারুক জিহাদি, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সভাপতি মো. হানিফ বয়াতী, হলদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি লিমন হাওলাদার এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হলদিয়া ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা হেলাল উদ্দিনসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।

বক্তারা বলেন, কয়েক দশক ধরে নদীটি কচুরিপানায় ভরে থাকলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। কচুরিপানা পচে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে নদী পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা হতাশ। কী কারণে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে, তা স্পষ্ট করে দ্রুত কাজ শুরুর দাবি জানান তাঁরা।

বক্তারা আরও বলেন, ভেকু মেশিন দিয়ে ১৫ কিলোমিটার নদীর কচুরিপানা অপসারণ করা কঠিন হতে পারে। তাই আগে যে পদ্ধতিতে যন্ত্রের সাহায্যে কচুরিপানা কাটা হচ্ছিল, তা পুনর্বিবেচনা করে দ্রুত কাজ চালু করতে হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “দরপত্র অনুযায়ী নদীর কচুরিপানা পরিষ্কার করতে হবে। মেশিন দিয়ে কচুরিপানা অপসারণের কোনো সুযোগ নেই।”

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান বলেন, “সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করতেই আমরা প্রকল্প নিয়েছি। সরকারি সিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হবে। জনগণের দাবি, কচুরিপানা এমনভাবে অপসারণ করতে হবে, যাতে তা পুনরায় জন্মাতে না পারে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করার চেষ্টা করছি।”

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD