সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আকর্ষণীয় বিদেশি চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা এবং অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সি (Crypto/USDT) লেনদেনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চার বাংলাদেশিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে নেপাল পুলিশ।
গত ১৩ জুলাই ২০২৬ নেপাল পুলিশ সাইবার ব্যুরোর প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফেসবুকে “কোনো কোম্পানিতে সাক্ষাৎকার ছাড়াই (Direct Hire) বিদেশে চাকরি” দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে সাইবার ব্যুরো।
তদন্তে জানা যায়, প্রতারক চক্রটি ভুক্তভোগীদের মোবাইলে একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ ডাউনলোড ও ব্যবহার করতে উদ্বুদ্ধ করত। এরপর বিভিন্ন কৌশলে তাদের ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করা হতো।
প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তদন্তের ভিত্তিতে নেপাল পুলিশের সাইবার ব্যুরোর একটি দল রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে নেপালের ইলেকট্রনিক লেনদেন আইন, ২০৬৩ অনুযায়ী কাঠমান্ডু জেলা আদালতের অনুমতিতে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে। তদন্তে আরও প্রাথমিকভাবে তাদের Binance প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে Crypto ও USDT-এর অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন:
সুভাষ কুমার মণ্ডল (২১) — মহোত্তরী জেলা, রামগোপালপুর পৌরসভা-৯; বর্তমানে কোটেশ্বর, কাঠমান্ডু।
মো. জুবায়ের আহমেদ (২৫) — মোল্লিকপাড়া, চুয়াডাঙ্গা সদর, চুয়াডাঙ্গা।
মো. নুর আলম রিজু (২৬) — পিতা: মো. আকবর আলী; খারিজা বজনী সরকারপাড়া, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।
মো. নাসিম মিয়া (২৪) — ইসলামপুর, মিঠাপুকুর, পায়রাবন্দ, রংপুর।
মো. রনি কামাল (২৭) — সরকারপাড়া, দক্ষিণ আমবাড়ি, ডোমার, নীলফামারী।
নেপাল পুলিশের সাইবার ব্যুরোর মুখপাত্র ও তথ্য কর্মকর্তা দিলীপ কুমার গিরি স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ব্যুরো জানিয়েছে, প্রতারণা ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


Leave a Reply