রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মাদক বিরোধী লাইভ দেওয়ার পর যুবদল নেতাকে কুপিয়ে জখম, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় স্থানান্তর বাঙ্গরায় দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: বাড়িঘর ও ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেটে ভাঙচুর, আহত-৪ লাখাইয়ের টমটম চালক হত্যা: লুট হওয়া মোবাইল উদ্ধারে রহস্য উদঘাটন শারদীয় দুর্গাপূজায় টুঙ্গিপাড়ার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা ফরিদ গাজীর বান্দরবানে দুই বিতর্কিত কর্মকর্তার পুনর্বহালের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মঞ্জুয়ারা হত্যা মামলায় যুবদল নেতাকে আসামি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন রামুতে পৃথক অভিযানে প্রায় ৬০ হাজার ইয়াবাসহ দুই কারবারি গ্রেপ্তার ইসলামপুরে যুবদল নেতাকে ‘ফাঁসানোর’ প্রতিবাদে চরপুটিমারী: মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) কর্তৃক মালিকবিহীন ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং বাংলাদেশী যৌন উত্তেজক সিরাপ আটক সম্প্রীতির বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬

কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ঝরে গেল রিক্তার স্বপ্ন, প্রতিবন্ধী বাবার চোখে জল।

মো::আনোয়ার হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার(জামালপুর)
  • Update Time : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
  • ৪৮ সময় দেখুন
৬০

বাবার পঙ্গুত্ব আর সংসারের চরম টানাটানির মাঝেও পড়ালেখা চালিয়ে নিজের একটি ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন ছিল রিক্তার। অন্ধকারের মাঝে আলোর প্রদীপ জ্বালতে চেয়েছিলেন প্রতিবন্ধী হেলাল মিয়ার এই মেয়ে। কিন্তু সেই আলো ছড়ানোর আগেই নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কলেজ কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে।
​ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুর সদরের তুলশীপুর ডিগ্রি কলেজে। উপজেলার মধ্য কইঠুলা গ্রামের প্রতিবন্ধী হেলাল মিয়ার মেয়ে রিক্তা আকতারের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
​ডিগ্রি ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করেছিলেন রিক্তা। কিন্তু পরীক্ষার দিন নির্দিষ্ট কেন্দ্রস্থলে গিয়ে জানতে পারেন, তিনি পরীক্ষার্থীই নন! তার নামে বোর্ড থেকে কোনো এডমিট কার্ডই ইস্যু করা হয়নি।
​অশ্রুসজল চোখে রিক্তা বলেন, “আমি নিজে কলেজে এসে ফরম পূরণ ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য ৩,০০০ টাকা জমা দিয়েছিলাম। আমার সঙ্গে অন্য সবার ফরম পূরণ হলেও আমারটা করা হয়নি। কলেজ কর্তৃপক্ষ আমার টাকা জমা নিল, অথচ বোর্ডে আমার নাম পাঠাল না! এখন আমি পরীক্ষা দিতে পারছি না। আমার পুরো একটা বছর নষ্ট হয়ে গেল। আমার পঙ্গু বাবার এত কষ্টের জবাব এখন কে দেবে?”
​টাকা নেওয়ার পরও কেন ফরম পূরণ করা হলো না এবং একজন শিক্ষার্থীর জীবন থেকে কেন একটি বছর হারিয়ে গেল—এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তুলশীপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নিজের দায় অস্বীকার করেন। উল্টো ঘটনাটির জন্য অসহায় এই ছাত্রীর ওপরই অভিযোগের দায় চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
​বোর্ডে টাকা ও তথ্য না পাঠানো কি শুধুই একটি সাধারণ ভুল, নাকি প্রশাসনিক চরম দায়িত্বহীনতা ও অপরাধ—তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। একজন সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র বাবার মেয়ের প্রতি এমন উদাসীনতার বিচার চান এলাকাবাসী।
​ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রিক্তার শিক্ষা জীবন রক্ষায় জেলা শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD