পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৮টি পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। আগুনে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি নগদ অর্থ, ধান, আসবাবপত্র, নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল এবং কয়েকটি গবাদিপশু ভস্মীভূত হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার সোনাহার ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি রান্নার চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে প্রবল বাতাসের কারণে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের বসতঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও তা সম্ভব হয়নি। পরে দেবীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডে এনামুল, সাদ্দাম, কুয়েত, মাসুদ, ইসলাম, মাহমুদসহ অন্তত ১৮টি পরিবারের বসতঘর পুড়ে যায়। আগুনে ঘরে থাকা নগদ অর্থ, খাদ্যশস্য, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এছাড়া কয়েকটি গবাদিপশুও আগুনে মারা যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে ঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করারও সুযোগ পাননি তারা। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই বহু বছরের কষ্টার্জিত সম্পদ আগুনে ভস্মীভূত হয়। হঠাৎ এই অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে সোনাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আগুনে প্রায় ১৮টি পরিবারের ৩০ থেকে ৩৫টি ঘর পুড়ে গেছে। ঘরে থাকা নগদ অর্থ, ধান, আসবাবপত্র ও গবাদিপশুসহ প্রায় সবকিছুই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহা বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে শুকনো খাবার ও কম্বল দেওয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত হওয়ার পর ঢেউটিনসহ অন্যান্য সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে।”


Leave a Reply