রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাদক বিরোধী লাইভ দেওয়ার পর যুবদল নেতাকে কুপিয়ে জখম, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় স্থানান্তর বাঙ্গরায় দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: বাড়িঘর ও ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেটে ভাঙচুর, আহত-৪ লাখাইয়ের টমটম চালক হত্যা: লুট হওয়া মোবাইল উদ্ধারে রহস্য উদঘাটন শারদীয় দুর্গাপূজায় টুঙ্গিপাড়ার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা ফরিদ গাজীর বান্দরবানে দুই বিতর্কিত কর্মকর্তার পুনর্বহালের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মঞ্জুয়ারা হত্যা মামলায় যুবদল নেতাকে আসামি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন রামুতে পৃথক অভিযানে প্রায় ৬০ হাজার ইয়াবাসহ দুই কারবারি গ্রেপ্তার ইসলামপুরে যুবদল নেতাকে ‘ফাঁসানোর’ প্রতিবাদে চরপুটিমারী: মানববন্ধন ও বিক্ষোভ ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) কর্তৃক মালিকবিহীন ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং বাংলাদেশী যৌন উত্তেজক সিরাপ আটক সম্প্রীতির বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬

পরীমণির সঙ্গে ‘অনৈতিক সম্পর্ক’, চাকরি হারাচ্ছেন এডিসি সাকলায়েন

প্রতিবেদকের নাম
  • Update Time : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
  • ২২৪ সময় দেখুন
১০১

পরীমণির সঙ্গে ‘অনৈতিক সম্পর্ক’চাকরি হারাচ্ছেন এডিসি সাকলায়েন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এবং বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে রাত্রিযাপন ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিভাগীয় ব্যবস্থা হিসেবে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা প্রজ্ঞাপনের সারসংক্ষেপে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষর করেছেন। এখন সারসংক্ষেপটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হবে। পরে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক অবসরের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। শিগগিরই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভারের ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একই বছরের ১৪ জুন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন গোলাম সাকলায়েন। পরবর্তীতে একাধিক বেসরকারি টেলিভিশনে সংবাদ প্রকাশিত হয় যে, সাকলায়েনের বাসায় পরীমণির যাতায়াত ছিল।

পরীমণির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠার পর গোলাম সাকলায়েনকে ডিবি থেকে বদলি করা হয়। অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। পরে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর ২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখার উপসচিব রোকেয়া পারভীন জুঁই স্বাক্ষরিত স্মারকে বিভাগীয় মামলায় তাকে গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানে’র বিষয়ে সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়ের (পিএসসি) পরামর্শ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। পিএসসির মতামত পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তাকে গুরুদণ্ড হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে।

পিএসসিতে পাঠানো শৃঙ্খলা শাখার ওই স্মারকে বলা হয়, ডিবি গুলশান বিভাগের এডিসি থাকাকালে নায়িকা পরীমণির সঙ্গে ঘটনাক্রমে তার পরিচয় ও যোগাযোগ শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় তিনি পরীমণির বাসায় নিয়মিত রাত্রিযাপন করতে শুরু করেন। পুলিশ অধিদপ্তরের এলআইসি শাখা থেকে দেওয়া তার ফোনের সিডিআর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন সময়ে, দিনে ও রাতে, পরীমণির বাসায় অবস্থান করেছেন।

একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর সিআইডির ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১ আগস্ট গোলাম সাকলায়েন তার পূর্বপরিকল্পনা ও সম্পূর্ণ জ্ঞাতসারে, স্ত্রী বাসায় না থাকা অবস্থায়, পরীমণিকে তার রাজারবাগের সরকারি বাসায় নিয়ে যান। পরীমণি সেখানে প্রায় ১৭ ঘণ্টা অবস্থান করেন এবং ২ আগস্ট রাত ১টা ৩০ মিনিটে বাসা ত্যাগ করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সাকলায়েন পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়েও সরকারি দায়িত্বের বাইরে পরীমণির সঙ্গে অতিমাত্রায় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। এতে বলা হয়, তিনি বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক। এরপরও পরীমণির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্ক, জন্মদিন উদযাপন এবং স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সরকারি বাসভবনে সময় কাটানোর মতো ঘটনা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।

গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর দায়ে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী জারি করা হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তা অভিযোগের জবাব দিয়ে ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন। বিভাগীয় মামলাটি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) হায়াত-উদ-দৌলা খাঁনকে। তদন্ত প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD