বলীপাড়ায় স্বাধীনতা দিবস পালন
উশৈনু মারমা
থানচি, বান্দরবান
মহান স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে বান্দরবানের থানচি উপজেলার ৪নং বলীপাড়া ইউনিয়নে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হলেও, বক্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়নে দায়বদ্ধতা ও কঠোর অবস্থানের আহ্বান। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশ, বর্ণাঢ্য র্যালি, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং আলোচনা সভা পুরো এলাকাজুড়ে দেশপ্রেমের আবহ তৈরি করে।
২৬শে মার্চ সকালে ৪নং বলীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে বিপুল মানুষের অংশগ্রহণে এক বিশাল আনন্দ র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বলী বাজার প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়। জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুনে সজ্জিত র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা দেশাত্মবোধক স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন। স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে র্যালিটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
র্যালি শেষে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর বলীপাড়া হাইস্কুল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
সভা শুরুর আগে ধর্মীয় সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত হিসেবে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মোঃ এহাসান হাবিব, ত্রিপিটক পাঠ করেন জনাব উক্যসিং মারমা, বাইবেল পাঠ করেন সুজন ত্রিপুরা এবং গীতা পাঠ করেন সজল কর্মকার। এতে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সহাবস্থান ও সম্প্রীতির বার্তা সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জনাব ক্যসাউ মারমা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জনাব মংসিংউ মারমাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বলেন, স্বাধীনতার চেতনা শুধু আনুষ্ঠানিকতা বা দিবস উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না—এটি বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত করতে হবে। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো অপতৎপরতা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে হবে। একইসঙ্গে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবহেলার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস থেকে বিচ্যুত হতে দেওয়া যাবে না। তাদের মাঝে দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। অন্যথায় স্বাধীনতার মূল চেতনা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
সার্বিকভাবে, বলীপাড়া ইউনিয়নে স্বাধীনতা দিবসের আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিক উদযাপনেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং বক্তাদের কঠোর বার্তা ও দৃঢ় অবস্থান ভবিষ্যতে দেশপ্রেম ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


Leave a Reply