রামগড়ে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ, পিআইও’র অস্বীকার
মো.মাসুদ রানা,
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের মানবিক ত্রাণ কার্যের আওতায় খাগড়াছড়ির রামগড়ে উপজেলার বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দের এক মে.টন চালের বদলে ৭ ও ৯ হাজার টাকা করে প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ২৭টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে ২৭ মে.টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েকজন দায়িত্বশীল অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বরাদ্দের চাল না দিয়ে তাদেরকে দিয়েছেন ৭ হাজার ও ৯ হাজার টাকা। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এস এম এ করিম।
জানাযায়, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বন্যা, নদী ভাঙন,ঘূর্ণিঝড় ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে প্রদত্ত ত্রাণ কার্যের (চাল) বরাদ্দ হতে রামগড় উপজেলার জন্য ১২ মে.টন, রামগড় পৌরসভার জন্য তিন মে.টন ও দীঘিনালা উপজেলার জন্য ৮ মে.টন চাল উপ বরাদ্দ দেন জেলা প্রশাসক। এছাড়া একই সময়ে সরকারি-বেসরকারি এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং, অনাথ আশ্রম, বৃদ্ধাশ্রম ও অন্যান্যা সামাজিক কল্যাণে নিয়োজিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে মানবিক সহায়তা হিসেবে জেলার ৯ উপজেলা ও তিনটি পৌরসভার জন্য মোট ৯৬ মে.টন চাল উপ বরাদ্দ দেন জেলা প্রশাসক। তম্মধ্যে রামগড় উপজেলার জন্য ১০ মে.টন ও পৌরসভার জন্য ৫ মে.টন চাল বরাদ্দ হয়। ১৫ জুন জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে এ উপ বরাদ্দ দেন বিতরণের জন্য।
জানাযায়, রামগড় উপজেলার ২৭টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নামে এক মে.টন হারে চাল বরাদ্দ করেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছ থেকে বরাদ্দপত্র গ্রহণের পর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও খাদ্য গুদামের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত চালের ছাড়করণ হয়। অভিযোগ উঠেছে, বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের এক টন চালের বদলে নগদ ৯ হাজার ও ৭ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। তম্মধ্যে ১২ টি মসজিদ ও নূরাণী মাদ্রাসায় চাল না দিয়ে প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নগদ ৯ হাজার টাকা, ১০ টি মন্দির ও বৌদ্ধ বিহারের দায়িত্বশীলদের সাত হাজার টাকা হারে প্রদান করা হয়। অপর একটি মাদ্রাসায় দেয়া হয় ২০ হাজার টাকা। রামগড় পৌর সভার তালিমুল কুরআন নূরাণী মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো: জসিম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন,’ আমার মাদ্রাসার নামে এক মে.টন চাল বরাদ্দ হলেও পিআইও (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) মাদ্রাসার এক শিক্ষককে অফিসে ডেকে নিয়ে ৯ হাজার টাকা দিয়েছেন।’ একই অভিযোগ করেছেন, বালুখালি বাহারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানার সভাপতি ওসমান গণি, বলিটিলা তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, সোনাইআগা কালী মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ধনঞ্জয় ত্রিপুরা। তারা জানান, ‘পিআইও বরাদ্দের চাল না দিয়ে তাদেরকে ৯ হাজার টাকা, আবার কাউকে ৭ হাজার টাকা করে দিয়েছেন।
এদিকে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এএসএম করিম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ” যার নামে বরাদ্দপত্র ইস্যু করা হয়, সে ব্যতিত অন্য কারও পক্ষে বরাদ্দের চাল বা গম খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করা সম্ভব নয়।’
রামগড় খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বরাদ্দপত্র যার নামে ইস্যু হয় শুধুমাত্র তিনিই গুদাম থেকে বরাদ্দ অনুযায়ী চাল/গম পেয়ে থাকেন।
রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম এ ব্যাপারে বলেন, ‘মৌখিকভাবে এ অভিযোগ পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তদন্তক্রমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


Leave a Reply