গোপালগঞ্জ শহরের তিলছড়া এলাকায় মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটি ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। মিছিলটি অল্প কিছু সময় স্থায়ী হলেও ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলের দিকে হঠাৎ করেই ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল মটেরসাইকেল সহ তিলছড়া এলাকায় জড়ো হয়। এরপর তারা ব্যানার ও পতাকা ছাড়াই সড়কে মিছিল বের করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে এলাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। পুরো ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মিছিলকারীরা সরে যান বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মিছিলে গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা নেতৃত্ব দেন। তবে তাদের পরিচয় এবং নেতৃত্বের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মিছিলের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কৌতূহল ও কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। অনেকেই ঘটনাস্থলের আশপাশে জড়ো হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তবে মিছিল চলাকালীন বা পরে কোনো ধরনের সংঘর্ষ, ভাঙচুর কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
এদিকে, আগামী ১৬ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত ‘গোপালগঞ্জ গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে বলে ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে কি না এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান কী, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পর সংগঠনটির প্রকাশ্য সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ অবস্থায় গোপালগঞ্জে কথিত এই ঝটিকা মিছিল স্থানীয়ভাবে নতুন করে আলোচনা ও বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।


Leave a Reply