July 8, 2026, 6:54 pm
শিরোনাম :
খুলনায় র‍্যাব-৬ এর অভিযানে অস্ত্র ও গুলিসহ দুর্ধর্ষ ডাকাত খবির মোল্লা গ্রেফতার রূপসায় কেডিএর উদ্যোগে সেবা ও মাস্টার প্ল্যান বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দীঘিনালায় বন্যার্তদের সহায়তায় সেনাবাহিনী, কোবাখালীতে ত্রাণ বিতরণ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ২ যুবকের ধর্ষণ রূপসা ও দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, প্রশংসায় ভাসছেন এমপি হেলাল সৌদিতে এক সপ্তাহে ১৫ হাজার ৫৯১ আইন লঙ্ঘনকারী গ্রেপ্তার ভেবেছিলাম আমিই দলকে ডুবালাম, ম্যাচ শেষে মেসি বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে কুমিল্লায় যুবক নিহত জামালপুরে এক আওয়ামী লীগ নেতার অফিস থেকে বন্দুক এবং বোমা উদ্ধার কাদা-জলে নাকাল ২ লাখ মানুষ: কটিয়াদীর জালালপুর সড়ক যেন এক মরণফাঁদ

মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ২ যুবকের ধর্ষণ

প্রতিবেদকের নাম
  • Update Time : Wednesday, July 8, 2026
  • 26 সময় দেখুন

এটিএম সাইফুল ইসলাম মাসুম,কুমিল্লা প্রতিনিধি।।

কুমিল্লার দেবিদ্বারে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মাদ্রাসা ছাত্রী(১৫)কে প্রেমের প্রস্তাবে রাজী করাতে না পেরে অটোরিক্সা যোগে সড়ক থেকে তুলে নিয়ে নিজ ঘরে দুই ধর্ষক পালাক্রমে ধর্ষনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই ঘটনায় বুধবার (৮ জুলাই)দুপুরে ভিক্টিম কিশোরীর মা’ বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় ধর্ষক সবুজ ও ইসমাইল নামে ২ যুবককে অভিযুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় কুমিল্লার দেবিদ্বারে অষ্টম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে সড়ক থেকে তুলে নিয়ে দুই যুবকের বিরুদ্ধে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে আপসের চেষ্টা করা হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টায়, দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামে। ঘটনার পর বিষয়টি গোপন রেখে, ওই দুই ধর্ষক পলাতক থেকে দালালের মাধ‍্যমে ৩ লক্ষ টাকার বিনীময়ে ভিক্টিমের দাদীর সাথে ঘটনার মিমাংসার উদ‍্যোগ নেয়া হয়।

পুলিশ জানায় ওই ঘটনা মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ‍্যমে ভাইরাল হলে ভিক্টিমের বাবা, মা ঢাকা থেকে এলাকায় আসেন এবং বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করলে, মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে পলাতক থাকায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। বুধবার দুপুরে ভিক্টিমের মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তরা হলেন,-দেবিদ্বার পৌরএলাকার বারেরা গ্রামের মোঃ রমিজ মিয়ার ছেলে মো. সবুজ মিয়া (২৪),ও একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মোঃ ইসমাইল (২৯)। উভয় ধর্ষক প্রবাস থেকে দেশে আসে এবং তারা দুজনই সম্পর্কে একে অপরের খালাতো ভাই। ভিক্টিম ও ভিক্টিমের ছোট বোন একই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেন।

বারেরা দাখিল মহিলা মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আমির হোসেন জানান, ভিক্টিম এবং তার ছোট বোন আমার মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশুনা করে। যেদিন ঘটনা ঘটে সেদিন (শনিবার) মাদ্রাসা বন্ধ ছিল। এখন সাময়িক পরীক্ষা চলছে। রবিবার আমি ভিক্টিমের দাদীকে ডেকে এনে তার নাতনীকে তার কাছে তুলে দিয়ে বলি, পরীক্ষা নিয়মিত চালিয়ে যেতে, আর ওই ঘটনা আইনের আশ্রয় কিংবা সামাজিক ভাবে শেষ করে নিতে পরামর্শ দেই।

ভিক্টিমের বাবা জানান, গত রবিবার বিষয়টি আমার মেয়ে ফোনে জানায়। আমি ঢাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করি। আমার স্ত্রীও তখন ঢাকা ছিল। সংবাদ পেয়ে গতকাল আমরা বাড়ি আসি। অভিযুক্তরা নারী পাচারকারী, যারা আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি, যা দেখে সমাজ শিক্ষা পায়। এ ব‍্যপারে আমার মায়ের কোন কথা বা বিষয় আমলে নেইনি।

ভিক্টিম কিশোরী (১৫) জানান,সবুজ আমাকে প্রেমের প্রস্তাবে বিরক্ত করে আসছিল।আমি রাজী না হওয়ায় ভয় ভিকি দেখিয়ে গত শনিবার সকাল ৮টায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বারেরা ফুলগাছ তলায় ডেকে নেয়,গলায় ছুরি ঠেকিয়ে এবং হুমকীর মুখে, সবুজ ও ইসমাই সেখান থেকে অটোযোগে আমাকে সবুজের বাড়িতে নিয়ে যায়। সবুজের স্ত্রী ডেলিভারির কারনে কুমিল্লা ছিল। সেখানে সবুজ এবং ইসমাইল আমাকে জোরপূর্বক পালাক্রমে শ্লীলতাহানী করে। এসময় এঘটনা কাউকে জানালে এ্যাসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেবে এবং আমার বাবাকে হত‍্যা করার হুমকী দেয়। তখন ওই বাড়ির এক মহিলা ও একটি মেয়ে আসলে তাদের ধমকে তাড়িয়ে দেয়।

দুজনই একটু আড়ালে যেয়ে কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছিল,টাকার বিনিময়ে আমাকে বিক্রি করে দেবে। দ্রুত টাকা নিয়ে চলে আসতে। তখন বুঝলাম সবুজ নারী পাচারকারী। আমি আমার হিজাব পরিবর্তন করে সবুজের স্ত্রীর হিজাব পড়ে কৌশলে ঘর থেকে বেড়িয়ে আসি এবং বাড়িতে যেয়ে দাদীকে সব খুলে

ভিক্টিমের দাদী জানান,বারেরা এবং বড়আলমপুর গ্রামের কয়েকজন লোক বিষয়টি গোপন রাখতে বলে এবং ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে শেষ করার প্রস্তাব দেয়।

দেবিদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখি। পরে অভিভাবকদের ডেকে এনে থানায় মামলা দায়ের পূর্বক ভিক্টিমকে ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে আদালতে ম‍্যাজিস্ট্রেটের নিকট ২২ ধারায় ভিক্টিমের জবানবন্দি রেকর্ড করাই। আমরা খুব দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD