July 7, 2026, 6:38 pm
শিরোনাম :
টানা বর্ষণে দুর্ভোগ,বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ সুবর্ণচরে সিসিএস এর পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে নরসিংদীর শিবপুরের নিরাপদ সড়ক চাই কমিটির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত দেবীগঞ্জে গাছের ডাল কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল এক ব্যক্তির কুমিল্লায় বিকল ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় নিহত-১, আহত-১০ কুমিল্লায় ডোবা থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার। গ্রেফতার-৪ ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল: উপকূলীয় বাগেরহাটে চরম সংকটে মৎস্য খাত সবুজ বাংলাদেশ গড়ার বার্তা জামান ফাউন্ডেশনের” কুলিয়ারচরে শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলজ গাছের চারা বিতরণ কুলিয়ারচরে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

টানা বর্ষণে দুর্ভোগ,বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ

প্রতিবেদকের নাম
  • Update Time : Tuesday, July 7, 2026
  • 26 সময় দেখুন

থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি :
টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানের থানচি উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম পর্যটন এলাকায় আটকে পড়া শতাধিক পর্যটককে নিরাপদে উপজেলা সদরে ফিরিয়ে এনেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে বৈরী আবহাওয়া, পাহাড়ধসের ঝুঁকি এবং সাঙ্গু নদীর তীব্র স্রোতের কারণে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সাত উপজেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, টানা বর্ষণে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়। ফলে রেমাক্রী, তিন্দু, নাফাখুম, আমিয়াখুম, সাইগং ঝর্ণাসহ থানচির বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েন। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন, টুরিস্ট গাইড, রিসোর্ট মালিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় দেওয়া হয় এবং বিনা খরচে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, রেমাক্রী এলাকার বিভিন্ন রিসোর্টে অবস্থান করা গাইডসহ ৭৪ জন পর্যটককে নদীর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে নিরাপদে থানচি সদরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া আমিয়াখুমে আটকে থাকা ১৮ জন এবং সাইগং ঝর্ণা এলাকায় অবস্থান করা আরও ১০ জন পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে উপজেলার কোনো পর্যটক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আটকে নেই।
টুরিস্ট গাইড কল্যাণ সমিতির সভাপতি জওয়াইপ্রু মারমা বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে গাইডরা সার্বক্ষণিক পর্যটকদের পাশে ছিলেন। নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সবাইকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে, সাঙ্গু নদীর প্রবল স্রোতের কারণে থানচি সদর থেকে তিন্দু ও রেমাক্রী ইউনিয়নের সব ধরনের নৌযোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশে পর্যটকবাহী ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, টানা বর্ষণে বান্দরবান-থানচি সড়কের একাধিক স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপে ধসে পড়া মাটি ও পাথর সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। থানচি-নীলগিরি সড়ক সচল রাখতে সেনাবাহিনীর ১৭ ইসিবি সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।
জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র, ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ ও দুর্গম এলাকায় পর্যটক, ট্যুর অপারেটর এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
বান্দরবান আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, সাঙ্গু নদীর প্রবল স্রোত, পাহাড়ধসের আশঙ্কা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সবাইকে দুর্গম পর্যটন এলাকা ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সম্ভাব্য যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় থানচি উপজেলায় ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত রয়েছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫-২০২৬
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD